ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঈদুল আজহার মাত্র দুদিন আগে প্রায় হাজারখানেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আগুনে পুড়ে গেছে ২৫০টিরও বেশি ঘর এবং প্রায় ৫০টি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন কালশী ফ্লাইওভারের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টিভেজা আকাশের নিচে কালশী ফ্লাইওভারের তলায় বসে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম। প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করা ঘরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা জীবনের সঞ্চয় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে।
আনোয়ারা বেগম বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু প্রাণ নিয়ে বেঁচে আছি।”
তিনি জানান, স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বস্তিতে বসবাস করছিলেন। ঈদকে ঘিরে কিছু প্রস্তুতিও চলছিল, কিন্তু আগুনের ঘটনায় এখন তাদের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদও নেই।
একই অবস্থা দেলোয়ার হোসেনের। প্রায় ১৫ বছর ধরে বস্তিতে বসবাসকারী এই ব্যক্তি জানান, তার ব্যাটারিচালিত রিকশা, গ্যারেজ এবং ভাড়ার ঘরসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে গেছে। পাশাপাশি তার ওপর এখনও কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝাও রয়েছে।
অন্যদিকে আসমা বেগম বলেন, আগুনে তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এই ফ্লাইওভারের নিচেই হয়তো এবার ঈদ কাটাতে হবে।”
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর ১৫টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা কাজ করে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ও ভাঙারির দোকান ছিল, যেখানে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই দগ্ধ এবং কাটা-জখমের শিকার।
এদিকে আগুন লাগানোর অভিযোগে নাজমুল হাসান মনি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
ঈদ সাধারণত মানুষের জন্য আনন্দ ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর উপলক্ষ। কিন্তু কালশীর বহু মানুষের কাছে এবার ঈদ এসেছে ঘর হারানোর বেদনা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে।
মন্তব্য করুন