চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ বা বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয়ে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগসহকারে লেখাপড়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ড্রেস প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী মিড-ডে মিল সুবিধা পাচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। আগামী অর্থবছরে আরও ৩৪৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তাদের উন্নয়ন ও বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা শেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন