জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের নেতাকর্মীরা।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই লেন অবরোধ করে সমাবেশ করেন।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রায় ১৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অথচ অভিযুক্তের স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সুস্পষ্ট ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি প্রশাসন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিচারপ্রক্রিয়া ও চলমান আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষক সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, জাবি শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রায় দেড়শ ঘণ্টা পার হলেও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের কারণে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
মন্তব্য করুন