চট্টগ্রাম: ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ঝটিকা মিছিলের আশঙ্কায় মাঠপর্যায়ের পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিকতর সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় রেঞ্জভুক্ত জেলার পুলিশ প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখার জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আকস্মিক মিছিল, সমাবেশ বা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো ধরনের মিছিল, মিটিং বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত রেঞ্জ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিবসটিকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৬৬ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা দাবির সমর্থনে দেশব্যাপী আন্দোলনের সূচনা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছয় দফা আন্দোলনই পরবর্তীকালে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপান্তরিত করার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রচলিত আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।
মন্তব্য করুন