কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, তা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন বাজেট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মূলত উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে সেই অর্থ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি এবং তিনি নিজেও কোনো টাকা গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।”
দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “উপজেলাকে কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে। একইভাবে সেই টাকা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার হিসাবও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থেকে থাকে, তাহলে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারে। তাহলেই প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্য এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি।
মন্তব্য করুন