রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং দেশজুড়ে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী।
বুধবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে নারী ও শিশু নিরাপদ নয়। খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
রামিশা হত্যাকাণ্ডকে “মানবতার নিকৃষ্ট উদাহরণ” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্ত্রীরা ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন, কিন্তু আমাদের দেশে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি চালু রয়েছে।”
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “রামিশা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্ট ঘটনা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মোবারক হোসেন, ড. হেলাল উদ্দিন, মাহফুজুর রহমানসহ অন্য নেতারা।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “মানুষ এখন প্রশ্ন করছে, দেশে আসলেই নতুন সরকার আছে কি না। এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়নি।”
বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মন্তব্য করুন