দেশের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো একের পর এক ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করাচ্ছে আমাদের। সীতাকুণ্ডে তরুণ জিলহানের নির্মম হত্যাকাণ্ড, উখিয়ায় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ছৈয়দা বেগমের মৃত্যু কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে সহিংসতা, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির বহু অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে হামলা, কোথাও সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক স্থাপনায় আক্রমণ, আবার কোথাও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা জনতার বিচারের নামে নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনায় সমাজের একাংশের নীরবতা কিংবা পরোক্ষ সমর্থন।
আরও উদ্বেগজনক হলো, বিভিন্ন সহিংস ঘটনাকে “অভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া” বা “প্রতিবাদ” বলে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা। কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা জনতার বিচারের সংস্কৃতি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন অংশের একটি অংশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা, প্রতিশোধ এবং বিভাজনের রাজনীতি অনেক সময় যুক্তি ও মানবিকতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা বা দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগ করাও সমাজকে আরও বিপজ্জনক অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আইনের শাসন, মানবিকতা এবং সহনশীলতা। যখন মানুষ বিশ্বাস হারাতে শুরু করে যে ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, তখন সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ঘৃণা ও প্রতিশোধের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই রক্ষা করে না। আজ যে অন্যায়ের শিকার, কাল অন্য কেউ একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সহিংসতা, উসকানি এবং নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান নেওয়া জরুরি।
একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে প্রয়োজন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস, ন্যায়বিচারের প্রতি সম্মান এবং মানবিকতার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান।
মন্তব্য করুন