বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হলেন।
খলিলুর রহমান পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ছুটিতে যাবেন। ফলে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন না হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা সমন্বয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
পদের মেয়াদ ও দায়িত্ব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা হয়।
সভাপতির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করা।
আলোচ্যসূচি অনুমোদন এবং বিতর্ক পরিচালনা করা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রস্তাব ও রেজুলেশনের ওপর ভোট গ্রহণ তদারকি করা।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে কূটনৈতিক সমন্বয় ও মধ্যস্থতা করা।
নিরাপত্তা পরিষদ, ইকোসক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধি ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য
পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচন নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন দেশের চলমান পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন