বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট শুধু দলীয় বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক অবিশ্বাস। রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের মধ্যকার এই অবিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই অনিশ্চয়তা গভীর হচ্ছে।
একটি বিষয় স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, তৃণমূল সংগঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণে দলটিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। একইভাবে বিএনপিও বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক শক্তি। ফলে দেশের স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ কোনো একক দলকে বাদ দিয়ে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা বেড়েছে। ইতিহাস বলে, বাংলাদেশের মানুষ সবসময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করেছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।
যখন কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখা শুরু হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধান শক্তি তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব।
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও বিভিন্ন খাতে সামরিক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়েও বহুদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এসব প্রশ্নের জবাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই আসা উচিত। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, তথ্যপ্রবাহও অনেক বেশি উন্মুক্ত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ যতই থাকুক, সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান আনে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাজনৈতিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতার ওপর।
ক্ষমতা পরিবর্তন হয়, সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু রাষ্ট্র ও জনগণ স্থায়ী। তাই যে কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত জনগণের আস্থা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।
মন্তব্য করুন