অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তার দাবি, সরকারের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করত এবং প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় তাদের বৈঠক হতো।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী চক্রের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কাজে হস্তক্ষেপের অনুভূতিও ছিল। এমনকি পরিস্থিতির কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান।
রাজনীতিতে ‘কিচেন কেবিনেট’ নতুন কোনো শব্দ নয়। সাধারণত রাষ্ট্র বা সরকারের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা উপদেষ্টার একটি অনানুষ্ঠানিক বলয়কে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের কাঠামো সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকরা মনে করেন, অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের জন্য অনানুষ্ঠানিক পরামর্শক গোষ্ঠী কাজ করে থাকে।
সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা প্রায় ছিল না বললেই চলে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেশি সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি মনে করেন, দলটি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না এবং ভবিষ্যতে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এমন অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের পর এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, সরকার পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো প্রভাবশালী বলয় থাকলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
মন্তব্য করুন