ঢাকা, ২৫ মে ২০২৬। রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের কালশি বাউনিয়াবাদ বস্তিতে সন্ধ্যার আগুন কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। আগুন শুধু টিন, বাঁশ আর কাঠের তৈরি ঘরগুলোকে গ্রাস করেনি, এটি আবারও সামনে এনেছে নগর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলো।
রাজধানীর বস্তিগুলোকে প্রায়ই ‘অস্থায়ী বসতি’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেখানে বসবাসকারী মানুষগুলো তো অস্থায়ী নয়। তারা শহরের শ্রমবাজারের অংশ, তারা এই শহরের অর্থনীতির চালিকাশক্তির একটি বড় অংশ। তবুও তাদের জীবন যেন বারবার একই অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে যায়।
আগুনের ঘটনায় ক্ষতির হিসাব শুধু ঘরবাড়ি দিয়ে মাপা যায় না। পুড়ে যায় বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা সঞ্চয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সন্তানের জন্য কেনা কাপড়, একটি পরিবারের ছোট ছোট স্বপ্ন।
এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণত উদ্ধার তৎপরতা, সহায়তা এবং তদন্তের ঘোষণা আসে। কিন্তু প্রতিবারই একটি প্রশ্ন থেকে যায়: প্রতিক্রিয়ার বাইরে প্রতিরোধ কোথায়?
বৈদ্যুতিক সংযোগের জট, ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন। তাহলে কেন একই ধরনের ঘটনা বারবার ফিরে আসে?
একটি শহরের উন্নয়ন শুধু উঁচু ভবন, মেট্রোরেল কিংবা বড় অবকাঠামো দিয়ে মাপা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হওয়া উচিত সেই শহরের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো কতটা নিরাপদ।
কালশির আগুন হয়তো নিভে যাবে। কিন্তু এই ঘটনার যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর উত্তর না মিললে একই গল্প হয়তো আবারও ফিরে আসবে অন্য কোনো বস্তিতে, অন্য কোনো পরিবারের জীবনে।
মন্তব্য করুন