sayed
২৪ মে ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নীরব চাঁদাবাজি আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ৩১৪; ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে,

চাঁদাবাজি

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পপতি থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হাসপাতাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত থেকে পরিবহন খাত, এমনকি নির্মাণ প্রকল্প পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ২৮০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ৩১৪ জনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো গুলির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদার টাকা না পাওয়ায় শুক্রবার রাতে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে তার বাড়ির প্রধান ফটকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এর আগেও গত ১০ মার্চ একই বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটে।

একই দিন রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ‘দীপু’ পরিচয় দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রাজধানীতে চাঁদাবাজদের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে প্রণীত এ তালিকায় সরাসরি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ২৮০ জনের নাম উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মী ও ক্যাডারদের পাশাপাশি প্রায় ১৪৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান, বাড্ডা এবং রামপুরা এলাকায় তাদের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির বলেছেন, “চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়ে সারা দেশে কাজ চলছে এবং নিয়মিত অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও চাঁদাবাজির ধরন ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী পরিবর্তন হলেও সমস্যাটি থেকে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, এটি শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সমস্যা। কার্যকর প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনের পেশাদার দায়িত্ব পালন জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নীরব চাঁদাবাজি আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ৩১৪; ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে,

নিউমুরিং টার্মিনালের দায়িত্বে থাকছে বর্তমান ঠিকাদার, বাড়তি ব্যয়ে এলএনজি আমদানির অনুমোদন

সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের মৃত্যুতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক

শেখ হাসিনা বিচার মোকাবিলায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছে। বাহাউদ্দিন নাছিম

পাকিস্তানের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং জোরদার, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা

সচিবের সই ছাড়াই ফাইল অনুমোদন করেছিলেন আসিফ মাহমুদ : প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতা নিয়ে সতর্ক করল ইউনিসেফ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ১৩ শিশুর

তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগে ওয়াশিংটনে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা

ডলারের বিপরীতে রুপি ১৫০ হলে কী হবে? ভাইরাল পূর্বাভাসে উদ্বেগ

১০

ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

১১

হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫০০ ছুঁই ছুঁই

১২

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

১৩

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ

১৪

গফরগাঁওয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা যুবকের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

১৫

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা,পুলিশের গুলি

১৬

পল্লবীতে নিহত শিশুটির বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৭

রামিশা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াতের সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

১৮

পল্লবীতে শিশুহত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির মশাল মিছিল

১৯

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট

২০