ভারতের বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) পশ্চিমবঙ্গে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার নবান্নে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসব ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারত সরকার ২০২৫ সালের ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি নির্দেশিকা পাঠায়। সেখানে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। একই সঙ্গে তারা একদিকে সিএএর বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে আইনটি বাস্তবায়নের সুযোগও কাজে লাগায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। সিএএর আওতায় থাকা সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।”
আইন অনুযায়ী আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মুসলিম সম্প্রদায় এ সুবিধার আওতায় থাকবে না।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “সিএএর আওতায় যারা নেই, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও বলেন। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গ অংশের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে।
বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে প্রথম ধাপে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকরের এই ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
মন্তব্য করুন