sayed
২০ মে ২০২৬, ৪:২৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শাহরিয়ার কবির, বইয়ের শৈশব এবং রাষ্ট্রের অসহিষ্ণুতা

শাহরিয়ার কবির

আমাদের একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে বই পড়ে। তখন হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ইউটিউব ছিল না, টিকটক ছিল না। বিকেলের মাঠ আর বইয়ের পাতা ছিল শৈশবের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সেই সময় শিশু-কিশোরদের জন্য যেসব লেখক আমাদের কল্পনাশক্তি, মানবিকতা আর চিন্তার জগৎ তৈরি করেছিলেন, শাহরিয়ার কবির তাদের অন্যতম।

“নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়” শুধু একটি বই নয়, এটি আমাদের অনেকের শৈশবের স্মৃতি। শাহরিয়ার কবির ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই কেনার জন্য আলাদা করে টাকা জমাতাম। সেই বইগুলো আমাদের শুধু আনন্দ দেয়নি, মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে।

শাহরিয়ার কবির শুধু শিশু-কিশোর সাহিত্যিক নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীও ছিলেন। স্বাধীনতার পক্ষে অনুপ্রেরণামূলক লেখা, কবিতা ও পাণ্ডুলিপি তৈরির মাধ্যমে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জামায়াত-শিবির রাজনীতির বিরোধী। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতা আর মানবিকতা এক জিনিস নয়। ব্যক্তিগতভাবে যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন তিনি একজন গভীর মানবিক মানুষ। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কেউ আহত হলেও তিনি সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবেন—এমন মানুষ হিসেবেই তাকে অনেকে জানেন।

সেই মানুষটিকেই এখন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা আদালতেই প্রমাণিত হবে, সেটাই আইনের নিয়ম। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে এমন এক বাস্তবতায় যাচ্ছে, যেখানে লেখক, বুদ্ধিজীবী ও ভিন্নমতের মানুষদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে?

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার নতুন কিছু নয়। কিন্তু কবি-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা ও গ্রেপ্তার বরাবরই উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রশ্ন নয়, এটি সমাজে মতপ্রকাশের পরিবেশ ও সহনশীলতার প্রশ্নও।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি কখনো একপাক্ষিক থাকে না। ইতিহাস বলে, আজ যারা নীরব থাকে, কাল তারাও একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে। তাই এটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের প্রশ্ন নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশ্ন।

বাংলাদেশে ভিন্নমত, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জায়গা যদি সংকুচিত হতে থাকে, তাহলে ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজেরই হবে।

কারণ একটি সমাজের শক্তি শুধু তার অর্থনীতি বা রাজনীতিতে নয়, তার সহনশীলতা, মানবিকতা এবং ভিন্নমতকে ধারণ করার সক্ষমতার মধ্যেও নিহিত থাকে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিখা অনির্বাণের চিরন্তন শিখা নিভে থাকার তথ্য ঘিরে নতুন প্রশ্ন

ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য সহায়তায় রেকর্ড বরাদ্দ

কারখানা বন্ধে উদ্বেগ, রেমিট্যান্সে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার

একনেকে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৫ প্রকল্প অনুমোদন

দুবাইয়ে আটক বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

দিল্লি বিমানবন্দরে আটকা পড়লেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা :ধরলেন ফিরতি ফ্লাইট

বাংলাদেশিদের টার্গেট করে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট অঙ্গ পাচার চক্রের অভিযোগ

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলে আলোচনায় আসা সন্ত্রাসী, ধাওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আশ্রয়

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে ব্যাপক সংঘর্ষ

স্ট্রিট লাইটিংয়ের নতুন প্রযুক্তি শিখতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

১০

বিশ্ব-দানবের মুখোশ খুললেন জয়শঙ্কর

১১

সংসদে তোফায়েল আহমেদসহ বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ

১২

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন, ২০৯ ধর্ষণ: টিআইবি

১৩

৭ জুনকে কেন্দ্র করে মাঠে বাড়তি নজরদারি সম্ভাব্য ঝটিকা মিছিলের আশঙ্কায় জেলা পুলিশকে সতর্কবার্তা

১৪

ছয় দফা থেকে স্বাধীনতা: বাঙালির মুক্তিযাত্রার স্মরণীয় দিন

১৫

সংকটে ব্যাংক খাত, তবু সেখানেই সরকারের ভরসা

১৬

কুয়েত-বাহরাইনে হামলার পর তেহরানের কড়া বার্তা ,হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি

১৭

কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন অধ্যায় শুরু

১৮

বছরের মধ্যেই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল: প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী

১৯

জ্বালানি তেলের পর বাড়ল বিদ্যুতের দাম

২০