ক্লাব ফুটবলে বিপুল অর্থ, তারকাখ্যাতি ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনার কারণে শীর্ষ কোচরা সাধারণত জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হন না। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। এবার বিশ্বের কয়েকজন সফল ক্লাব কোচ জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ইংল্যান্ডে টমাস টুখেল
বায়ার্ন মিউনিখ, চেলসি ও পিএসজির সাবেক কোচ টমাস টুখেল এখন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্বে। ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারা ইংল্যান্ড এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করতে চায় জার্মান এই কোচের হাত ধরে।
সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেট ইংল্যান্ডকে দুটি ইউরো ফাইনাল ও একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তুললেও বড় ম্যাচে কৌশলগত সীমাবদ্ধতার সমালোচনায় পড়েছিলেন।
চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা টুখেলকে তাই নতুন আশার প্রতীক হিসেবে দেখছে ইংলিশ ফুটবল। তবে ক্লাব ফুটবলের কৌশল আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।
ব্রাজিলে কার্লো আনচেলত্তি
২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল। সর্বশেষ ২০০২ সালে শিরোপা জিতেছিল সেলেসাওরা। এরপর ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর এবার ইতালিয়ান কিংবদন্তি কার্লো আনচেলত্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচবার শিরোপা জয় করা আনচেলত্তি ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ। রিয়াল মাদ্রিদে তার অধীনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ক্যারিয়ারের সেরা ফুটবল খেলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে আগের মতো জাদুকরী প্রতিভার ছড়াছড়ি না থাকলেও আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, ঠান্ডা মাথা ও ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দলটিকে আবারও বড় সাফল্যের পথে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে পচেত্তিনো
আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো এখন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের দায়িত্বে। টটেনহ্যামকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তোলা এই কোচ পিএসজি ও চেলসিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তরুণ দলকে প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত করার দায়িত্ব এখন পচেত্তিনোর কাঁধে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলে বিশ্বমানের ক্লাব কোচদের আগমন আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এতে বিশ্বকাপের কৌশলগত লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন