রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এডিস মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আগের বছরের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ মে পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১৭ জন এবং এ সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে সংক্রমণ কিছুটা কম থাকলেও এপ্রিল থেকে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে, যা উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। শুধু রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলাতেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং বা স্প্রে কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে উৎস ধ্বংস করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
বিশেষ করে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বাসাবাড়ির টব, ড্রাম, নির্মাণাধীন ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ না করা হলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন