sayed
৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করলেন বৈশ্বিক এই মর্যাদা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।

এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হলেন।

খলিলুর রহমান পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ছুটিতে যাবেন। ফলে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন না হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা সমন্বয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

পদের মেয়াদ ও দায়িত্ব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা হয়।

সভাপতির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:

সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করা।
আলোচ্যসূচি অনুমোদন এবং বিতর্ক পরিচালনা করা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রস্তাব ও রেজুলেশনের ওপর ভোট গ্রহণ তদারকি করা।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে কূটনৈতিক সমন্বয় ও মধ্যস্থতা করা।
নিরাপত্তা পরিষদ, ইকোসক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধি ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য

পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচন নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন দেশের চলমান পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে।

সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭ জুনকে কেন্দ্র করে মাঠে বাড়তি নজরদারি সম্ভাব্য ঝটিকা মিছিলের আশঙ্কায় জেলা পুলিশকে সতর্কবার্তা

ছয় দফা থেকে স্বাধীনতা: বাঙালির মুক্তিযাত্রার স্মরণীয় দিন

সংকটে ব্যাংক খাত, তবু সেখানেই সরকারের ভরসা

কুয়েত-বাহরাইনে হামলার পর তেহরানের কড়া বার্তা ,হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি

কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন অধ্যায় শুরু

বছরের মধ্যেই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল: প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী

জ্বালানি তেলের পর বাড়ল বিদ্যুতের দাম

প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

হঠাৎ মমতার মুখে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: নতুন বিতর্কে ভারত-বাংলাদেশ রাজনীতি

১০

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করলেন বৈশ্বিক এই মর্যাদা

১১

কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহমেদ। রাজনীতির এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের অবসান

১২

মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

১৩

তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ১৯ জন আটক

১৪

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শেখ হাসিনার গভীর শোক

১৫

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদ আর নেই

১৬

বিশ্বকাপের আগে গোল উৎসবে মাতলো ব্রাজিল,

১৭

লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান জোরদার, বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি

১৮

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ

১৯

বিতর্কের কেন্দ্রে মোহসিন রশীদ: সেনাবাহিনী ও শেখ হাসিনা ইস্যুতে বিশেষ সাক্ষাৎকার

২০