জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, হুমকি এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ‘বামপন্থী’ বলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকরা জানান, প্রক্টরকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণের সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নূরে তামিম স্রোতসহ কয়েকজন তাদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ওই ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রকাশকারী সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যকরী সদস্য নাজিহা নাওয়ারকে একজন ভিডিও প্রতিবেদকের নাম ধরে হ্যান্ডমাইকে ডাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, “আপনি যদি আপনার দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তাহলে আপনার সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া হবে।”
সেখানে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সজিব আহমেদ জেনিচসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকরা বলেন, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।
দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রক্টর অফিসে বহিরাগত আটকের খবর পেয়ে তারা সংবাদ সংগ্রহে যান। পরে আন্দোলনকারীদের একাংশ প্রক্টরের দিকে মারমুখী আচরণ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাসস প্রতিনিধি মাহ্ আলম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি মুশফিক রিজওয়ান বলেন, একটি দোকান কর্মচারীর ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে পুরো দায় সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে তাদের গালিগালাজ করা হয়। এতে সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে একই দিন দুপুরে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার আরেকটি অভিযোগ ওঠে। এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি আকিব সুলতান অর্নব জানান, রেজিস্ট্রার ভবনে সংবাদসংক্রান্ত কাজে প্রবেশ করতে গেলেও তাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।
সন্ধ্যার ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান।
এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন