কুরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ব্যাংক খাতে নগদ টাকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা না পাওয়ায় গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ দিতে পারছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে নগদ টাকার চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে। তবে এবার নতুন নোটের সংকট ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে পারছে না। ফলে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একাধিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কয়েক হাজার কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিলেও তার অল্প অংশ পাচ্ছে। একটি প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক গত কয়েক দিনে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা চাইলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ পেয়েছে।
জানা গেছে, ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছিল। তবে কাগজ ও কালি সংকটের কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকার নোট সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নোট প্রস্তুত অবস্থায় থাকলেও আপাতত সেগুলো বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকাররা বলছেন, ছাপানো টাকার সংকট এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এক বিষয় নয়। বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা। তবে বাজারে প্রচলিত ছাপানো নোটের চাহিদা ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একযোগে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণত ধাপে ধাপে নোটের নকশা পরিবর্তন করা হলেও এবার সব মূল্যমানের নোট একসঙ্গে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।
এ কারণে পুরোনো নোট বাজারে ছাড়াও সীমিত হয়ে পড়ে এবং নতুন নোট সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হয়নি।
ব্যাংকারদের অভিযোগ, চাহিদামতো নতুন নোট না পাওয়ায় বাজারে এখন প্রচুর ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত নোট ঘুরছে। ব্যাংকগুলো পুরোনো নোট জমা দিলেও পর্যাপ্ত নতুন নোট পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “নতুন নকশার নোট আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। সে কারণেই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা সরবরাহ শুরু হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদের মতো বড় উৎসবের আগে নগদ টাকার সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনাবেচা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন