
বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। হাতে ছিল দুই দিন ও ১০ উইকেট, লক্ষ্য ৪৩৭ রান। কিন্তু চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার দুর্দান্ত স্পিনে ম্যাচে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য সফরকারীদের এখনও প্রয়োজন ১২১ রান, আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩ উইকেট।
দিনের শেষ সেশনে পাকিস্তানের হয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ষষ্ঠ উইকেটে তারা যোগ করেন ১৩৪ রান। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ ধীরে ধীরে পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকছে, তখন নতুন বল হাতে আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম।
দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পরই দুর্দান্ত এক আর্ম বলে সালমান আগাকে বোল্ড করেন তিনি। ১০২ বলে ৭১ রান করে ফেরেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। এরপর নিজের পরের ওভারেই হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরান তাইজুল। স্লিপে ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন সাজিদ খান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল তাইজুল ইসলাম। ৩১ ওভারে ১১৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তরুণ পেসার নাহিদ রানা নিয়েছেন ২ উইকেট, আর একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এর আগে পাকিস্তানের দুই বড় জুটিই ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে যোগ করেন ৯২ রান। পরে রিজওয়ান ও সালমান গড়েন ১৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
তবে ইতিহাস এখনো বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির নেই। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা এখনও বিশ্বরেকর্ড।
পাকিস্তানও কখনও টেস্টে ৪০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি। তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া ৩৭৭, যা তারা ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটিতে চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই।
সব মিলিয়ে পঞ্চম দিনের শুরুতে সিলেট টেস্ট এখন রোমাঞ্চের চূড়ায়। ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ, নাকি বিশ্বরেকর্ড লিখবে পাকিস্তান—সেই উত্তর মিলবে শেষ দিনের লড়াইয়ে।
মন্তব্য করুন