দীর্ঘদিনের করসংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেয়েছেন কলম্বিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাকিরা। স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক ন্যাশনাল অডিয়েন্স আদালত ২০১১ সালের আয়কর বিতর্কে তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শাকিরার কাছ থেকে আদায় করা সাড়ে ৫ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ সুদসহ ফেরত দিতে হবে কর কর্তৃপক্ষকে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের কর বিরোধের জেরে এই অর্থ তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত জানিয়েছেন, ওই সময়ে শাকিরা স্পেনের কর বাসিন্দা ছিলেন—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেনি কর কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের আইন অনুযায়ী, কাউকে কর বাসিন্দা হিসেবে বিবেচনা করতে হলে বছরে অন্তত ১৮৩ দিন দেশটিতে অবস্থান করতে হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে শাকিরা ১৮৩ দিনের বেশি সময় স্পেনে ছিলেন—এমন দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের এই রায় গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দেওয়া হলেও সোমবার প্রথমবারের মতো তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই শাকিরা দাবি করে আসছিলেন, তিনি ওই সময়ে স্পেনের পূর্ণাঙ্গ কর বাসিন্দা ছিলেন না। তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে তৎকালীন স্বামী ও সাবেক ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকের সঙ্গে স্পেনে বাড়ি কেনা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত বিশ্বভ্রমণের কারণে ওই সময়ে স্পেনে ১৮৩ দিন অবস্থান করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে এবং জানায়, কর কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে ২০২১ সালে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শাকিরার আইনজীবী হোসে লুইস প্রাদা এক বিবৃতিতে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত এসেছে আট বছরের দীর্ঘ ভোগান্তির পর, যা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতার অভাবকে তুলে ধরে।”
একই বিবৃতিতে শাকিরা বলেন, “আমি আশা করি এই রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং সাধারণ মানুষকে সহায়তা করবে, যারা অনেক সময় নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।”
তবে এটি শাকিরার একমাত্র কর মামলা নয়। ২০২৩ সালে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের কর ফাঁকির অভিযোগে তিনি সমঝোতায় পৌঁছান। বিচারের ঝুঁকি এড়াতে অভিযোগ স্বীকার করে তিনি ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করেন। সে সময় তিনি জানান, পরিবারের দীর্ঘ আইনি হয়রানি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, শাকিরার সাবেক স্বামী ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা জেরার্ড পিকেও স্পেনে কর জালিয়াতির একাধিক মামলায় জড়িয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে তিনি সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।
মন্তব্য করুন