অ্যাজমা বা হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এই রোগে ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালিগুলো প্রদাহের কারণে সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাঁপানির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে কাশি, শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতি। কখনো এসব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দেয়, আবার কখনো আলাদাভাবেও হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, যে কারও হাঁপানি হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাঁপানির ইতিহাস থাকলে, অ্যালার্জিজনিত রোগ যেমন একজিমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
এ ছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালি, ধোঁয়া এবং কর্মক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ হাঁপানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শৈশবে সময়ের আগে জন্ম, কম ওজন নিয়ে জন্ম, ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাঁপানির প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
অ্যাজমা অ্যাটাকের লক্ষণ
অ্যাজমা অ্যাটাক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন শ্বাস নিতে অত্যন্ত কষ্ট হয় এবং উপসর্গ দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠে।
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
শ্বাসকষ্ট দ্রুত বেড়ে যাওয়া
রিলিভার ইনহেলার আগের মতো কাজ না করা
বারবার ইনহেলার প্রয়োজন হওয়া
কথা বলতে কষ্ট হওয়া
হাঁটা বা স্বাভাবিক কাজ করতে সমস্যা হওয়া
পিক ফ্লো রিডিং কমে যাওয়া
চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
চিকিৎসকদের মতে, হাঁপানির স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা এবং অ্যাজমা অ্যাটাক প্রতিরোধ করা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক রোগী উপসর্গ কমে গেলে ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
প্রতিরোধে করণীয়
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা
অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করা
নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করা
ঠান্ডা ও সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকা
ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়া
ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চিকিৎসাই হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মন্তব্য করুন