১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লাইভ ভিডিওকারী ওয়ালিউর রহমান। নিজের জীবন দিয়ে দেখাল দেশের জনগণকে দুর্ঘটনার খবর।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২
  • 34

লাইভ ভিডিওকারী ওয়ালিউর রহমান।

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করছিলেন ওয়ালিউর রহমান নামে এক তরুণ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে যখন আগুন লাগে তখন একটু দূরে দাঁড়িয়েই মোবাইলে ফেসবুক লাইভ করছিলেন তিনি। লাইভে দেখা যায়, কনটেইনারে আগুন জ্বলছে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

লাইভে থাকা অবস্থায় দেখা যায় হঠাৎ বিস্ফোরণ। এরপরই স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তার সন্ধান মেলেনি। রাত ২টার দিকে ফেসবুক লাইভকারী তরুণ ওয়ালিউর রহমানের লাশ আসে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে।

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ৩০ জনকে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একজনকে আনা হয় মৃত অবস্থায়। তিনি লাইভ ভিডিওকারী ওয়ালিউর রহমান।

একনজরে সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোয় বিস্ফোরণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে শনিবার (৪ জুন) রাত ১১টায়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলের আশপাশে আগুন, উত্তাপ ও ধোঁয়া প্রত্যক্ষভাবে ছড়িয়েছে আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকায়, আর প্রভাব পড়েছে ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পর এখনো আগুন জ্বলছে। এ ছাড়া কিন্তু ডিপোয় থাকা মালামাল সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় সেখানকার ফায়ার ফাইটাররাই সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার হয়েছেন।
হতাহত
আগুনে দগ্ধ হয়ে আটজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকশ মানুষ আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, সিএমএইচসহ আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। গুরুতর আহতাবস্থায় আইসিইউতেও রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে গুরুতর আহত তিনজনকে।
ঘটনার পরপরই হতাহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা শুরু হয়। শনিবার রাতে অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আহত ব্যক্তিদের সেখানে আনা হচ্ছিল। এদিকে হাসপাতালে মানুষ আহত ব্যক্তিদের রক্ত দিতে ভিড় করছেন। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের জড়ো করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা ভিড় করছেন। স্বজনদের খোঁজ করছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া হাসপাতালে মানুষের ভিড়ের জন্য চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিএম কনটেইনার ডিপোয় শনিবার রাতে আগুন লাগার পর সারা রাত থেমে থেমে বিস্ফোরণ হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুপুর ১২টার পর আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। তবে এখনো আগুন নেভানোর কাজ চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী
আইএসপিআর জানায়, ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা দলও নিয়োজিত রয়েছে। তাদের সঙ্গে আছে মিলিটারি পুলিশ। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক সামগ্রী সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রোধে এ দল কাজ করছে। আর বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিতে কাজ করে চলেছে।

বিপুল রাসায়নিক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড’ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ডিপোর কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। হাইড্রোজেন পারক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি উত্তপ্ত হলে বিস্ফোরক হিসেবে আচরণ করে। জানা যায়, ডিপোতে আমদানি ও রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী অন্তত ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন
বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় কেমিক্যালের বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ ঘটনাস্থলে আসা লোকজন চোখ খুলতে পারছেন না। বেশির ভাগ সদস্যের চোখ লাল হয়ে গেছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আগুন লাগার মূল জায়গায় এখনো ফায়ার সার্ভিস ঢুকতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি মালিকপক্ষকে
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রোববার দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ডিপোর মালিক বা কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি। মালিকপক্ষের কেউ না-থাকায় কনটেইনার ডিপোয় কী ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে, তা জানতে পারছে না ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। এ কারণে তারা উদ্ধার তৎপরতায় বেকায়দায় পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, পানি দিয়ে সব কেমিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।

ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে রোগী
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনজন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া আরও রোগীদের হেলিকপ্টারে করে আনার জন্য জরুরি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সরকারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এত বড় দুর্ঘটনা আর ঘটেনি
আমদানি-রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২৪ বছর আগে চট্টগ্রামে কনটেইনার ডিপো শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। চট্টগ্রামে এ শিল্পের যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম কোনো কনটেইনার ডিপোয় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

লাইভ ভিডিওকারী ওয়ালিউর রহমান। নিজের জীবন দিয়ে দেখাল দেশের জনগণকে দুর্ঘটনার খবর।

Update Time : ০৬:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করছিলেন ওয়ালিউর রহমান নামে এক তরুণ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে যখন আগুন লাগে তখন একটু দূরে দাঁড়িয়েই মোবাইলে ফেসবুক লাইভ করছিলেন তিনি। লাইভে দেখা যায়, কনটেইনারে আগুন জ্বলছে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

লাইভে থাকা অবস্থায় দেখা যায় হঠাৎ বিস্ফোরণ। এরপরই স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তার সন্ধান মেলেনি। রাত ২টার দিকে ফেসবুক লাইভকারী তরুণ ওয়ালিউর রহমানের লাশ আসে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে।

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ৩০ জনকে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একজনকে আনা হয় মৃত অবস্থায়। তিনি লাইভ ভিডিওকারী ওয়ালিউর রহমান।

একনজরে সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোয় বিস্ফোরণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে শনিবার (৪ জুন) রাত ১১টায়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলের আশপাশে আগুন, উত্তাপ ও ধোঁয়া প্রত্যক্ষভাবে ছড়িয়েছে আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকায়, আর প্রভাব পড়েছে ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পর এখনো আগুন জ্বলছে। এ ছাড়া কিন্তু ডিপোয় থাকা মালামাল সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় সেখানকার ফায়ার ফাইটাররাই সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার হয়েছেন।
হতাহত
আগুনে দগ্ধ হয়ে আটজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকশ মানুষ আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, সিএমএইচসহ আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। গুরুতর আহতাবস্থায় আইসিইউতেও রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে গুরুতর আহত তিনজনকে।
ঘটনার পরপরই হতাহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা শুরু হয়। শনিবার রাতে অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আহত ব্যক্তিদের সেখানে আনা হচ্ছিল। এদিকে হাসপাতালে মানুষ আহত ব্যক্তিদের রক্ত দিতে ভিড় করছেন। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের জড়ো করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা ভিড় করছেন। স্বজনদের খোঁজ করছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া হাসপাতালে মানুষের ভিড়ের জন্য চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিএম কনটেইনার ডিপোয় শনিবার রাতে আগুন লাগার পর সারা রাত থেমে থেমে বিস্ফোরণ হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুপুর ১২টার পর আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। তবে এখনো আগুন নেভানোর কাজ চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী
আইএসপিআর জানায়, ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা দলও নিয়োজিত রয়েছে। তাদের সঙ্গে আছে মিলিটারি পুলিশ। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক সামগ্রী সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রোধে এ দল কাজ করছে। আর বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিতে কাজ করে চলেছে।

বিপুল রাসায়নিক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড’ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ডিপোর কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। হাইড্রোজেন পারক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি উত্তপ্ত হলে বিস্ফোরক হিসেবে আচরণ করে। জানা যায়, ডিপোতে আমদানি ও রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী অন্তত ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন
বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় কেমিক্যালের বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ ঘটনাস্থলে আসা লোকজন চোখ খুলতে পারছেন না। বেশির ভাগ সদস্যের চোখ লাল হয়ে গেছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আগুন লাগার মূল জায়গায় এখনো ফায়ার সার্ভিস ঢুকতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি মালিকপক্ষকে
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রোববার দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ডিপোর মালিক বা কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি। মালিকপক্ষের কেউ না-থাকায় কনটেইনার ডিপোয় কী ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে, তা জানতে পারছে না ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। এ কারণে তারা উদ্ধার তৎপরতায় বেকায়দায় পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, পানি দিয়ে সব কেমিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।

ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে রোগী
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনজন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া আরও রোগীদের হেলিকপ্টারে করে আনার জন্য জরুরি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সরকারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এত বড় দুর্ঘটনা আর ঘটেনি
আমদানি-রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২৪ বছর আগে চট্টগ্রামে কনটেইনার ডিপো শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। চট্টগ্রামে এ শিল্পের যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম কোনো কনটেইনার ডিপোয় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল।