০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের রাজপথ কাঁপাচ্ছে ইটালির বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি স্পোর্টস কার

ময়মনসিংহে রাজপথ কাঁপাচ্ছে মোটর মেকানিকের বানানো ইতালির বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি স্পোর্টস কার।
গাড়িটি দেখতে নানা বয়সী মানুষের ভীড়। প্রশংসায় ভাসছেন আজিজ যে গাড়িটি নির্মান করেছেন।
গাড়িটি রাস্তায় চলার অনুমতি চেয়ে আরো গাড়ি তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী চান দরিদ্র আজিজ ।

লক্ষ্য মনোবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠিন পরিশ্রম থাকলে অসাধ্যের কিছু নেই এমনটা প্রমাণ করলেন ময়মনসিংহের আজিজ।
পেশায় একজন রং মিস্ত্রি হলেও নিজের কর্মগুণে সারাদেশে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছাড়াই নিজ হাতে হাতুড়ি বাডাল দিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন ইতালিয়ান কোম্পানির বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস কার লাম্বরগিনি।

বলছিলাম ময়মনসিংহের মোটর মেকানিক আব্দুল আজিজের কথা।
৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মোঃ আব্দুল আজিজ জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের জাকনিপুর গ্রামের মোঃ সোহরাব আলীর ছেলে।
চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ আজিজ। আজিজ তার দুই মেয়ে তাসফিয়া ও তাবাসসুম সহ স্ত্রী শাহনাজ মুক্তাকে নিয়ে বসবাস করেন ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকায়।

আজিজ জানান, কর্মের তাগিদে লেখাপড়া হয়নি আব্দুল আজিজের, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় একটি গ্যারেজে কাজ নেয়া এই মেধাবী বর্তমানে কাজ করেন ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকার শাহাদাত মটরস ওয়ার্কশপে।

আজিজ জানান, ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে দেখে গাড়ী তৈরীর ইচ্ছে জাগে তার মনে।
ইচ্ছেশক্তি থেকেই লেগে যান স্বপ্নের লাম্বরগিনি গাড়ীর আদলে স্পোর্টস কার তৈরীর মিশনে।
দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আব্দুল আজিজ নিজের সিমীত অর্থ দিয়ে শুরু করেন গাড়ী তৈরীর কাজ, হাটতে থাকেন ইচ্ছে পূরণের পথে।
দীর্ঘ পনেরো মাসের কঠিন পরিশ্রমে স্বপ্নের দেখা পান তিনি।

প্রথমে নানা লোক নানা কথা বললেও আজ তার সাফল্যের স্বপ্নকে ছুঁতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ।
একজন রং মিস্ত্রির অসাধ্যকে সাধণ করা বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি গাড়ীটি ছুয়ে দেখতে সেলফি তুলতে গাড়ী পিপাসুদের ভীড় আজিজের কর্মস্থলে।
সফলতার প্রশংসায় ভাসছেন আজিজ। বিভিন্ন প্রশংসা করে স্থানীয়রা জানান, আজিজ শুধু ময়মনসিংহ নয় সারাদেশের গর্ব।
এমন প্রতিভা কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান এলাকাবাসীর ।

নিজ গাড়ি চালাতে চালাতে সফলতার বিভিন্ন বর্ণনা করতে করতে আব্দুল আজিজ জানান,
গাড়িটি তৈরি করতে পনেরো লাখ টাকার মধ্যে এগারো লাখ টাকা ঋণ করেছেন তিনি, চিন্তায় অসুস্থও হয়েছেন, হাল ছাড়েননি,
তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন সেই অনুপ্রেরণা তাকে সাহস জুগিয়েছে।
দেশে গাড়ী প্রস্তুতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
আব্দুল আজিজ তার গাড়িটি রাস্তায় চলাচলের অনুমতি চান, পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে মেড ইন বাংলাদেশ গাড়ি নির্মাণের স্বপ্নও দেখেন তিনি।

টয়োটার স্টারলেট গাড়ির পুরনো ইঞ্জিনে আব্দুল আজিজের মডিফাইড লাম্বরগিনি গাড়ীটি এখন সকলের কাছে অসাধ্যকে সাধন করার আর স্বপ্ন পূরণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে রইলো।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ময়মনসিংহের রাজপথ কাঁপাচ্ছে ইটালির বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি স্পোর্টস কার

Update Time : ০১:০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

ময়মনসিংহে রাজপথ কাঁপাচ্ছে মোটর মেকানিকের বানানো ইতালির বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি স্পোর্টস কার।
গাড়িটি দেখতে নানা বয়সী মানুষের ভীড়। প্রশংসায় ভাসছেন আজিজ যে গাড়িটি নির্মান করেছেন।
গাড়িটি রাস্তায় চলার অনুমতি চেয়ে আরো গাড়ি তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী চান দরিদ্র আজিজ ।

লক্ষ্য মনোবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠিন পরিশ্রম থাকলে অসাধ্যের কিছু নেই এমনটা প্রমাণ করলেন ময়মনসিংহের আজিজ।
পেশায় একজন রং মিস্ত্রি হলেও নিজের কর্মগুণে সারাদেশে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছাড়াই নিজ হাতে হাতুড়ি বাডাল দিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন ইতালিয়ান কোম্পানির বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস কার লাম্বরগিনি।

বলছিলাম ময়মনসিংহের মোটর মেকানিক আব্দুল আজিজের কথা।
৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মোঃ আব্দুল আজিজ জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের জাকনিপুর গ্রামের মোঃ সোহরাব আলীর ছেলে।
চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ আজিজ। আজিজ তার দুই মেয়ে তাসফিয়া ও তাবাসসুম সহ স্ত্রী শাহনাজ মুক্তাকে নিয়ে বসবাস করেন ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকায়।

আজিজ জানান, কর্মের তাগিদে লেখাপড়া হয়নি আব্দুল আজিজের, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় একটি গ্যারেজে কাজ নেয়া এই মেধাবী বর্তমানে কাজ করেন ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকার শাহাদাত মটরস ওয়ার্কশপে।

আজিজ জানান, ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে দেখে গাড়ী তৈরীর ইচ্ছে জাগে তার মনে।
ইচ্ছেশক্তি থেকেই লেগে যান স্বপ্নের লাম্বরগিনি গাড়ীর আদলে স্পোর্টস কার তৈরীর মিশনে।
দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আব্দুল আজিজ নিজের সিমীত অর্থ দিয়ে শুরু করেন গাড়ী তৈরীর কাজ, হাটতে থাকেন ইচ্ছে পূরণের পথে।
দীর্ঘ পনেরো মাসের কঠিন পরিশ্রমে স্বপ্নের দেখা পান তিনি।

প্রথমে নানা লোক নানা কথা বললেও আজ তার সাফল্যের স্বপ্নকে ছুঁতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ।
একজন রং মিস্ত্রির অসাধ্যকে সাধণ করা বিশ্বখ্যাত লাম্বরগিনি গাড়ীটি ছুয়ে দেখতে সেলফি তুলতে গাড়ী পিপাসুদের ভীড় আজিজের কর্মস্থলে।
সফলতার প্রশংসায় ভাসছেন আজিজ। বিভিন্ন প্রশংসা করে স্থানীয়রা জানান, আজিজ শুধু ময়মনসিংহ নয় সারাদেশের গর্ব।
এমন প্রতিভা কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান এলাকাবাসীর ।

নিজ গাড়ি চালাতে চালাতে সফলতার বিভিন্ন বর্ণনা করতে করতে আব্দুল আজিজ জানান,
গাড়িটি তৈরি করতে পনেরো লাখ টাকার মধ্যে এগারো লাখ টাকা ঋণ করেছেন তিনি, চিন্তায় অসুস্থও হয়েছেন, হাল ছাড়েননি,
তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন সেই অনুপ্রেরণা তাকে সাহস জুগিয়েছে।
দেশে গাড়ী প্রস্তুতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
আব্দুল আজিজ তার গাড়িটি রাস্তায় চলাচলের অনুমতি চান, পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে মেড ইন বাংলাদেশ গাড়ি নির্মাণের স্বপ্নও দেখেন তিনি।

টয়োটার স্টারলেট গাড়ির পুরনো ইঞ্জিনে আব্দুল আজিজের মডিফাইড লাম্বরগিনি গাড়ীটি এখন সকলের কাছে অসাধ্যকে সাধন করার আর স্বপ্ন পূরণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে রইলো।