ক্ষমতা রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:18 AM, 03 July 2022

ক্ষমতা রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। তারা বিরোধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নানাবিধ ভীতিকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি জান্তা সরকার সাজানো, পাতানো, যোগসাজসী ও ফরমায়েশি বিচারের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতাদের প্রাণদ-ে দ-িত করতে শুরু করেছে। এমনই প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকারকে এবার যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জানা গেছে, গত বছরের সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় সম্প্রতি মিয়ানমারের ডজনখানেক গণতন্ত্রকামী নেতা ও আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদ-ের নির্দেশ দিয়েছে জান্তার অধীনে মিয়ানমারের আদালত। আর এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমার আইনসভার প্রাক্তন এমপি তথা আউং সান সু চি-র দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা হিয়ো জেয়া থয়ো এবং জনপ্রিয় গণতন্ত্রকামী নেতা কো জিমি। তাদের প্রাণদ- হলে, তা যুদ্ধাপরাধের সমান হবে বলে মিয়ানমার সেনাকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সংগঠনের প্রধান নিকোলাস কউমজিয়ান।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পরে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল নির্বাচিত সরকারকে। বন্দি করা হয় শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি-সহ বহু গণতন্ত্রকামী নেতা-কর্মীকে। সু চি-র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা চলছে আদালতে। এমনকি চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেছে বেছে কিছু রাজনৈতিক বিরোধীর মৃত্যুদ-ের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ রয়েছে। যদিও কবে তাদের মৃত্যুদ- কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাদের আর বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখা হবে না বলে আশঙ্কা বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের।

বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও। অভিযুক্তদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ধৃতদের বিচার প্রক্রিয়া চলেছে আদালতের বন্ধ ঘরে। কী হচ্ছে, তা জনসমক্ষে আনা হয়নি। নিকোলাস বলেছেন, ‘অভিযুক্তদের মানবাধিকার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ভয়ানক ভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। কাউকে প্রাণদ- দেয়া হোক বা কয়েক ঘণ্টার জন্য আটকে রাখা হোক, যে বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের অধিকার রক্ষা করা হয় না, তা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সমান। যাদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ছিল, না কি পক্ষপাতদুষ্ট, তা কেউই জানি না।’ নিকোলাস মনে করেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধীদের মনে ভয় ঢোকাতেই মৃত্যুদ-ের নির্দেশ কার্যকর করতে চায় জান্তা সরকার।’

গত বছরের শুরুতে সামরিক বাহিনী মিয়ানমারে ক্ষমতাগ্রহণের পর জাতীয় নেতাদের গণহারে গ্রেফতার করেছে। ফলে বিক্ষুব্ধ জনতার পদভারে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ দমাতে সামরিক সরকার বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দলন-পীড়ন চালিয়েছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা বিরোধী শিবিরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই কথিত বিচারের নামে বিরোধীদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে হয় না বরং রাজপথ আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে।

এমতাবস্থায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে জান্তা সরকারকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার কোন বিকল্প নেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে মিয়ানমারকে চলমান সঙ্কট থেকে বাঁচাতে।