কুমিল্লা সিটি করপোরেশন,বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা উপ-নির্বাচন আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:38 PM, 14 June 2022
নির্বাচন কমিশন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।  বিগত ১৮ দিন ধরে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে আজ থেকে ভোটারদের চিন্তা ভাবনা চলছে কাকে নগর পিতা নির্বাচিত করবেন।
আজ মঙ্গলবার কুমিল্লা জিলা স্কুলের শহীদ আবু জাহিদ মিলনায়তন থেকে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে ইভিএম বিতরণ করা হচ্ছে। ট্রাকে করে সকাল থেকে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
১০৫টি ভোট কেন্দ্রে নিয়োগকৃত ১০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কেন্দ্র্রের ভোটগ্রহণ সরঞ্জামাদি সুষ্ঠুভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ বিতরণ করছেন। প্রিজাইডিং অফিসারগণ কেন্দ্রে নিয়োগকৃত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের  নিয়ে ভোট গ্রহনের কেন্দ্রগুলোতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন মহিলা ভোটারসহ ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে হিসাব নিকাশ করছেন। এবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৫ জন মেয়র প্রার্থী, ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ২৫টি ওয়ার্ডে ১০৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ড ৫ ও ১০ নং ওয়ার্ডে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ২ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলায় ১ হাজার ২৬০ জন আনসারসহ ৩ হাজার ৬০৮ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ৭৫টি চেক পোস্ট, স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৫ প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাব নিয়োগ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রের ৬৪০টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আজ সকালে কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে নির্বাচনে নিয়োগকৃত ৩ হাজার ৬০৮ জন পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তা সদস্যদের এক সমাবেশে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এক ব্রিফিং এ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কর্মদায়িত্ব বন্টন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ও জেলা আনসার কমাডেন্ট সঞ্জয় চৌধুরী নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের নির্দেশনা দেন। এ সময় জেলা পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। একইসাথে গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনও এদিন হবে।
বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার ১০টি কেন্দ্র আর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১০২টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।
ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকা দু’টিতে প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রগুলিতে ভোটের দিন ১ হাজার ২৫৫ জন পুলিশ  মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ২ হাজার ৪২১ জন আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান জানান, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকবেন। নারী ও পুরুষ আনসার সদস্যরা তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী এলাকার সড়কের মোড়ে মোড়ে ১৮টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় ভোটের দিন ৪৭টি মোবাইল টিম কাজ করবে। প্রতি ৩টি কেন্দ্রে ১টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। থাকবে ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ডিবির ৪টি টিম। এছাড়া র‌্যাব-৯ সদস্যরাও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনী কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বাসস’কে জানান, এই পৌরসভায় মোট ২৭ হাজার ৭৯০ জন ভোটার রয়েছেন। এতে মোট ১০টি ভোটকেন্দ্রে ৮০টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএম দ্বারা ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতি কক্ষে থাকবে একটি করে ইভিএম মেশিন। তবে ৮০টির স্থলে ১২০টি ইভিএম মেশিন সরবরাহ রাখা হয়েছে। ভোটে যাতে কাউকে বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় তার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বাড়তি মেশিন দেওয়া হবে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি সারাতে ৩টি টিম নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। আর প্রতিটি কেন্দ্রে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বাসস’কে জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন প্রার্থী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজার ১০০ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার জন নারী এবং ১ লাখ ১৮ হাজার ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। এতে মোট ১০২টি কেন্দ্রে ৬২৫টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ জুন) রাত ১২টা থেকে নির্বাচনী এলাকা দুটিতে সবধরনের প্রচারণার বন্ধ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী  ভোট করছেন। আর এই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. শফিক উদ্দিন  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার পৌরসভায় মেয়র পদে  নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের আব্দুস শুকুরসহ তার  প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন মোট ১০ জন। অন্য প্রার্থীরা হলেন- আহবাবুর রহমান সাজু (কম্পিউটার),  ফারুকুল হক (চামচ), আব্দুল কুদ্দুছ টিটু (হেলমেট), প্রভাষক আব্দুস সামাদ আজাদ (হ্যাঙ্গার), মোহাম্মদ অজি উদ্দিন (নারিকেল গাছ),  মোহাম্মদ আব্দুস সবুর (মোবাইল ফোন),  তফজ্জুল হোসেন (জগ), মো. সুনাম উদ্দিন (লাঙল) এবং  মোহাম্মদ আবুল কাশেম (কাস্তে)।
এদিকে, একই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়ন কাজলসার ও সুলতানপুরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।