ইউএইর বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
- Update Time : ১২:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ৩ Time View
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ হামলার ঘটনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সীমানার ভেতরে একটি ড্রোন আঘাত হানলে একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আমিরাতের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম হামলায় ব্যাহত হয়নি। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, “সব কটি ইউনিট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। আমিরাতও প্রকাশ্যে কোনো দেশকে দায়ী করেনি।
পরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে তৃতীয় একটি ড্রোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার ভেতরে একটি জেনারেটরে আঘাত হানে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ দিয়ে প্রবেশ করেছিল। হামলার উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এদিকে International Atomic Energy Agency (আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা) জানিয়েছে, হামলার ফলে একটি রিঅ্যাক্টর সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
সম্প্রতি ইরান আমিরাতের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফরের খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও তা অস্বীকার করেছে আমিরাত সরকার।











