হা‌লিশহ‌রে সরকারী দ‌লের নেতা‌দের ব্যাপক চাঁদাবা‌জি। এলাকাবাসীরা অ‌তিষ্ঠ!

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:04 AM, 15 March 2021

চট্টগ্রাম সি‌টি ক‌র্পো‌রেশন এর আওতাধীন উত্তর হা‌লিশহর ২৬নং ওয়া‌র্ডের ‌বি-ব্লক ‘এইচ ক্লাব’ মো‌ড়ে আওয়ামী লীগের পা‌র্টি অ‌ফিস তৈরীর নাম ক‌রে চল‌ছে এলাকায় লাগামহীন ব্যাপক চাঁদাবা‌জি। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলী‌গের আহবায়ক ক‌মি‌টির বর্তমান সদস্য সা‌লেহ আহমদ দীঘল এর নেতৃ‌ত্বে চল‌ছে এ চাঁদাবা‌জি। এ অ‌বৈধ চাঁদাবা‌জির সা‌থে আরও র‌য়ে‌ছেন যুবলীগ নেতা দীঘ‌লের এর ঘ‌নিষ্ঠ ব‌লে প‌রি‌চিত মাহবুব প্রকাশ কালা মাহাবুব, ‌বি-ব্ল‌কের আরেক যুবলীগ নেতা এম‌ডি ফারুক প্রকাশ বাইট্টা ফারুক, ছাত্রলীগ নেতা জিতু, সাইফুল সহ আরও বেশ কিছু সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠ‌নের নেতা-কর্মীরা। এরা এলাকায় ৫০০ টাকা থে‌কে শুরু ক‌রে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় ক‌রে চল‌ছে ব‌লে অ‌ভি‌যোগ পাওয়া যায়। বি‌ভিন্ন ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বি‌ভিন্ন টা‌র্গেট ব্যক্তি‌দের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হ‌চ্ছে।

সরজ‌মি‌নে দেখা যায়, বি-ব্ল‌কের এইচ ক্লাব মো‌ড়ে চট্টগ্রাম সি‌টি ক‌র্পো‌রেশ‌নের জায়গায় অ‌বৈধভা‌বে এক‌টি ক্লাব ঘর তৈরীর কাজ চল‌ছে। গত প্রায় এক বছর এলাকার গ্রু‌পিং‌য়ের কার‌নে টিন সেড দেয়া ক্লাব ঘর‌টি তালা বদ্ধ অবস্থায় ছি‌লো। কিন্তু সম্প্র‌তি হ‌য়ে যাওয়া চ‌সিক নির্বাচন‌কে কেন্দ্র ক‌রে ‌নির্বাচনী অ‌ফিস করার নাম ক‌রে সা‌লেহ আহ‌মেদ দীঘল, ফারুক পুনরায় ক্লাব ঘর‌টি খো‌লো। নির্বাচন শেষ হ‌য়ে যাবার পর টিন সেড ঘর‌টি‌কে ভে‌ঙ্গে পুনরায় নির্মান কাজ শুরু ক‌রে।

নাম প্রকা‌শ না করা শ‌র্তে এইচ ক্লাব মো‌ড়ের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমা‌দের প্র‌কি‌বেদক‌কে জানান, “‌গেল বছর নির্বাচ‌নের আগে চ‌সিক প্রশাসক সুজন সা‌হেব মে‌াড়ের সকল অ‌বৈধ দোকান উচ্ছেদ ক‌রে দীর্ঘ দিন অ‌বৈধভা‌বে দখ‌লে থাকা সি‌টি ক‌র্পো‌রেশ‌নের স্থাপনা উদ্ধার ক‌রেন। কিন্তু নির্বাচ‌নের পর পরই আবার সরকারী জায়গা দখল ক‌রে আগের ম‌তো দোকান ব‌সে।”

‌বি-ব্ল‌ক আওয়ামী লী‌গের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করা শ‌র্তে ব‌লেন, “চ‌সিক নির্বাচ‌নের পরপরই এইচ ক্লাব মোড়‌টি আবার বেদখল হ‌য়ে যায়। প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বা‌ণিজ্য হয় এ দোকানগু‌লো বসা‌তে। পু‌রো টাকাটাই দীঘল, ফ‌ারুক, কালা মাহবুব, জিতু সহ এলাকার কি‌শোর গ্যাং‌য়ের কিছু সদস্য‌দের প‌কে‌টে যায়। পরব‌র্তি‌তে যখন পু‌লিশ এসব স্থাপনা উঠা‌তে আসে তখন পুনরায় এসব দোকান গু‌লো খে‌কে ৫০,০০০ টাক‌া নি‌য়ে থানা ম্যা‌নেজ ক‌রে। এখন চল‌ছে পা‌র্টি অ‌ফিস করার নাম ক‌রে ব্যাপক চাঁদাবা‌জি। পু‌রো প্র‌ক্রিয়া‌টির নেতৃত্ব দি‌চ্ছে যুবলীগ নেতা দীঘল।”

এ‌বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে এইচ ক্লাব মো‌ড়ে অ‌বৈধভা‌বে ক‌র্পো‌রেশ‌নের জায়গা দখল করে বসা একজন দোকানদার নাম প্রকাশ না করা শ‌র্তে ব‌লেন, “এখা‌নে ৫টি দোকান আছে। আমরা প্র‌তি দোকা‌নের জন্য ৩০ থে‌কে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে‌ছি। প‌রে আবার পু‌লিশদের দেওয়ার জন্য আরও ৫০ টাকা দি‌তে হ‌য়ে‌ছে।” কা‌দের এ টাকা দি‌য়ে‌ছেন জান‌তে চাই‌লে প্রখ‌মে কিছু বল‌তে অপারগতা প্রকাশ করে‌লেও প‌রে নাম না প্রকাশ শ‌র্তে ব‌লেন যে দীঘল ও ফারুক ভাই‌কে আমরা টাকা দি‌য়ে‌ছি।

এ‌দি‌কে আমা‌দের প্র‌তি‌বেদ‌কের সরজ‌মিন তদ‌ন্তে প্রাপ্ত তথ্য খে‌কে জানা যায়, পা‌র্টি ক্লাবঘর তৈরীর নাম ক‌রে এলাকার প্রায় প্র‌তি‌টি ছোট বড় দোকান থে‌কে শুরু ক‌রে ভ্যান গাড়ী‌তে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী‌দের কাছ থে‌কেও চাঁদা আদায় কর‌ছে।

এ প্রস‌ঙ্গে বল‌তে গি‌য়ে একজন গ্রোসারী ব্যবসায় ব‌লেন, “এ ক্লাব ঘর‌টি যখন বন্দ ছি‌লো, এলাকার মানুষরা সাচ্ছ‌ন্দে চলা‌ফেরা কর‌তে পার‌তো। দোকানদারাও স্বস্তি‌তে ব্যবসা কর‌তে পার‌তেন কিন্তু ক্লাব ঘর‌টি আবার খোলার পর থে‌কেই এইচ ক্লাব মো‌ড়ের প‌রি‌বেশ একদম বিশৃঙ্খল হ‌য়ে গে‌ছে। কি‌শোর গ্যাং‌দের প্রধান আড্ডা স্থল হ‌য়ে গে‌ছে। কিছু হ‌লেই চাঁদা দি‌তে হ‌চ্ছে। ব্যবসা‌য়িরা অ‌তিষ্ঠ হ‌য়ে গে‌ছে তা‌দের চাঁদাবা‌জির অত্যাচা‌রে।”

এলাকায় দীর্ঘ‌দিন যাবৎ বসবাসকারী স্থায়ী বা‌সিন্দা‌দের ম‌তে, আশি নব্বই দশ‌কে এই এইচ ক্লাব মো‌ড়ে তৎকালীন ক্লাব ঘর‌কে ঘি‌রে ছি‌লো জুয়ারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী‌দের আখড়া। ‌হেন কোন অপরাধী কার্যক্রম ছি‌লো না যা সেই ক্লাব ঘর‌কে ঘি‌রে হ‌তো না। তখনকার সেই ‘এইচ ক্লাব’ ছি‌লো এলাকার সাধারন অ‌ধিবা‌সী‌দের জন্য এক মূ‌র্তিমান আতংক। নব্বই দশ‌কের পর সেই ক্লাবঘর এলাকাবাসী‌রা পু‌ড়ি‌য়ে দি‌য়ে‌ছি‌লো। কিন্তু এখন আবার সেই পুরা‌নো সন্ত্রাসী প‌রি‌বেশ ফি‌রে আস‌ছে ব‌লে এলাকার পুরাতন বা‌সিন্দারা আশংকা ব্যক্ত ক‌রছেন।

এ‌ বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে চট্টগ্রাম সি‌টি ক‌র্পো‌রেশ‌নের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়‌টি তা‌দের জানা নেই। ত‌বে নির্বাচ‌নের আগে সি‌টি ক‌র্পো‌রেশন থে‌কে অ‌বৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হ‌য়ে‌ছি‌লো। য‌দি আবা‌রো দখল হয় ত‌বে আবা‌রো উচ্ছেদ করা সহ দখলদার‌দের বিরু‌দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়ার কথা জানা‌লেন এ কর্মকর্তা।

এ‌বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে সা‌লেহ আহ‌মে‌দ দীঘ‌লের বাংলা‌লিংক নম্ব‌রে আমা‌দের প্র‌তি‌বেদক একা‌ধিকবার ফোন কর‌লে বারবার তি‌নি লাইন কে‌টে দেন।

আপনার মতামত লিখুন :