সাক্কুর হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে কুমিল্লার নগরপিতা রিফাত

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:51 PM, 15 June 2022
আরফানুল হক রিফাত বেসরকারিভাবে কুমিল্লা সিটি মেয়র নির্বাচিত

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত।
আরফানুল হক রিফাত নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী, সদ্য বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।
কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমীতে সিটি নির্বাচনের ফলাফলের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী আজ বুধবার রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
কমিশন ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত অপর প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট।সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে নতুন নগরপিতা পেল কুমিল্লাবাসী। সাক্কুর হ্যাটট্রিক আটকে নিজেকে জানান দিলেন তিনি। কিন্তু কে এই রিফাত। জেনে নেয়া যাক তার সম্পর্কে বিস্তারিত।

আরফানুল হক রিফাত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি এবং স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়াকালীন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন রিফাত। ১৯৮০ সালে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৮১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের প্যানেলে বহিঃক্রীড়া ও ব্যায়ামাগার সম্পাদক নির্বাচিত হন সদ্য বিজয়ী এই নগরপিতা।ওই সময় কলেজ ছাত্র সংসদে প্রথম জাতির পিতার ছবি টাঙান রিফাত। একই বছরে জামায়াত শিবিরের আক্রমণের শিকারও হন তিনি। ওই সময় তার দুই হাত এবং দুই পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। ১৯৮৩-৮৫ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে চিকিৎসা নেন। এ সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও। ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্যপদ লাভ করেন নৌকার এ কাণ্ডারি। পরে তিনি কুমিল্লা জেলা যুবলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেন তিনি।

এ ছাড়া গত ১২ বছর ধরে কুমিল্লা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কুমিল্লা ক্লাবের দুবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন কুমিল্লার এই নতুন নগরপিতা।