সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় পুলিশের জব্দ তালিকায় নেই কোনো ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি’!

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:06 PM, 20 May 2021

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে চুরি ও অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে করা মামলায় পুলিশের জব্দ তালিকায় নেই কোনো ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি’। বৃহস্পতিবার (২০ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপন করা জব্দ তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অথচ তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় করা মামলায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরা সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় গোপর নথি’ চুরির অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আজকে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপন করা জব্দ তালিকায় গোপন নথির কথা উল্লেখ নেই।

রোজিনা ইসলাম অবশ্য শুরু থেকে ওই অফিস থেকে কোনো নথি সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার (২৩ মে) দিন ধার্য করা হয়েছে। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের জন্য দিনও ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে সাংবাদিক রোজিনার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি, আমিনুল গনি টিটু, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও আশরাফুল আলম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের জামিনের বিরোধিতা করেন হেমায়েত উদ্দিন হিরোন।

আদালত শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন। শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।
সাংবাদিক রোজিনার জামনি বিষয়ে আজ আদেশ না হওয়ায় ন্যায়বিচারে বিলম্ব হলো বলে মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি।

তিনি বলেছেন, ‘মামলাটি জামিনযোগ্য। আমরা আশা করেছিলাম রোজিনাকে আজ জামিন দেওয়া হবে। তাকে আজ জামিন না দেওয়ায় ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলো।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ মে) রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত। সেদিন সকালে তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার।

অন্যদিকে তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
এরপর রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর প্রিজন ভ্যানে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সোমবার (১৭ মে) রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী।

সচিবালয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ আনে মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন :