সরকার ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দুর্নীতি ও দুঃশাসন আড়াল করতে চায়।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:04 AM, 19 May 2021

সরকার ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দুর্নীতি ও দুঃশাসন আড়াল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রোজিনা ইসলাম একজন সিনিয়র সাংবাদিক। তার অনেক অনুসন্ধানী ও সাহসী রিপোর্টে সরকারের বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনেক দুর্নীতি, অনিয়মের খবর জনগণ জানতে পেরেছে। সেজন্য সরকার তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং নজরদারী করছিলো।

তিনি বলেন, গত রোববার রোজিনা ইসলাম পেশাগত কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে একা পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়ভাবে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একজন নারী সাংবাদিকদের ওপর সরকারি কর্মকর্তাদের এহেন আচরণ লজ্জাজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

রোজিনা ইসলামকে আটক রেখে নির্যাতনের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরপূর্বক তাকে গ্রেফতার করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রমাণ হয়-বাংলাদেশে এখন আর স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং তথ্য পাওয়ার কোন সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এটি কোন তুচ্ছ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কর্তৃত্ববাদী শাসনে সাংবাদিক দলন এবং ভিন্নমত, সত্য প্রকাশ ও সরকারের সীমহীন দুর্নীতি প্রচারে সরকারের প্রতিবন্ধকতার এটি একটি উদাহরণ মাত্র। সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যাতে আর সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সংবাদ প্রকাশ করতে না পারে-এ ঘটনার মাধ্যমে তাদেরকে ভয় দেখানো হলো।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকের ওপর নিষ্ঠুর আচরণের দায় সরকার এড়াতে পারে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব এ ঘটনা জানলেও তারা রোজিনা ইসলামকে উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের নির্দেশেই রোজিনা ইসলামের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোজিনা ইসলামের মুক্তি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার, তাকে আটক রাখাসহ নির্যাতনের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ এবং সাংবাদিক দলন-নিপীড়ন বন্ধ করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সঠিক তথ্য পাবার অধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :