শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হতে যাচ্ছে আরেক প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও।

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:03 PM, 27 July 2022

পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট অনিশ্চয়তায় ফেলেছে পাকিস্তানের ২২ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে। রেকর্ড মূল্যস্ফীতি এই অবস্থাকে করেছে আরও কঠিন। এই মুহূর্তে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ২ মাসের আমদানি ব্যয়ও পরিশোধ করা যাবে না। এছাড়া ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৭১.৩ শতাংশ। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পাকিস্তানও শ্রীলঙ্কার পথেই হাঁটছে বলে মনে করেছেন বিশ্লেষকরা।

২০১৯ সালে শ্রীলংকার বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ নানা সংকটে তা কমতে কমতে এখন দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দেশটি। শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হতে যাচ্ছে আরেক প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও।

বিশ্বব্যাপী পণ্য ও জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান আমদানির চাপে ব্যাপক হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে পাকিস্তানে। দেশটিতে জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ২১.৩ ভাগ, যা ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পাকিস্তানের পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে , জ্বালানি, চাল, আটা, ভোজ্যতেল, ডাল, আলুসহ ৫১ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে দাম বেশি বেড়েছে। যার মধ্যে জ্বালানি তেলেরই দাম বেড়েছে ৯২ ভাগ।

এদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে সুদের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বর্তমানে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩২ কোটি ডলারে। যা দিয়ে দুই মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো সম্ভব না। আর বৈদেশিক ঋণ খেলাপি থেকে বাঁচতে কমপক্ষে ৭৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

এছাড়াও পাকিস্তানের রুপির অবস্থান মুদ্রাবাজারে ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমেছে ২০ শতাংশ।

ইমরান খান সরকারের পতন হতে না হতেই দেশের রিজার্ভ পতন, জ্বালানি এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেশটিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে, আইএমএফ বেইলআউট হিসেবে যে অর্থ পাওয়ার কথা, সেটিও এখন পর্যন্ত আনতে পারেনি শাহবাজ শরিফের সরকার।