শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে ফের বিপুল অর্থ উদ্ধার, চলছে গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:24 PM, 27 July 2022

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ফের বিপুল অর্থ উদ্ধার হয়েছে। রাজ্যটির সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের আরও এক যক্ষের ধনের নতুন ঠিকানা পেল মার্কেট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের পর বুধবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেলঘড়িয়ায় ফের অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের আরও দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মেলে। যার একটি ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করেছে ইডি। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি যে ইডির তরফে টাকা গুণতে ৪ জন রিজার্ভ ব্যাংক কর্মী ও ট্রাকে করে বড় বড় ৫টি  টাকা গোনার মেশিন আনতে হয়েছে। বুধবার তল্লাশি চালাতে অর্পিতার বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে তালা ভেঙে ঢোকে ইডি। সেখানে দেখা যায়, অর্পিতার টালিগঞ্জের বাড়ির মতোই ওয়ার্ডড্রবে থরে থরে টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ টাকা এদিন উদ্ধার হয়েছে তার আনুমানিক মূল্য এখনো প্রকাশ করেনি ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

ইতোমধ্যেই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘরিয়া টাউন ক্লাবের হাউজের ৫ নম্বর ব্লক এর এইট/এ নম্বরের ফ্ল্যাটে এই টাকা গোনার মেশিন এনে টাকা গননার কাজ শুরু হয়েছে। উৎসুক জনতার ভিড় থাকায় চারিদিকে আঁটোসাঁটো করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা। বেলঘড়িয়ার অর্পিতার যে ফ্ল্যাট  থেকে টাকা পাওয়া গেছে, এদিন সেই ব্লকের সম্পাদককে ডেকে পাঠায় ইডি। তার সামনেই সাক্ষী রেখে ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে চলে তল্লাশি। তল্লাশির শুরুতেই টালিগঞ্জের মতো বেলঘরিয়াতেও আলমারিতে বস্তায় বস্তায় টাকা পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর জানাজানি হতে আবাসনের চারিদিকে উৎসাহী মানুষ ভিড় শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা, প্রবল উত্তেজনা দেখা দেয় এলাকায়। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা কেলেঙ্কারিতে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ঘুষ বাবদ এই অর্থ নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২১ কোটি ২০ লাখের বেশি রুপি, ৫৮ লাখ রুপি সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা, ৭৯ লাখ রুপির সোনার গহনা উদ্ধার করে ইডি। এছাড়া ৪৫ কোটি মূল্যের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, কলকাতা, শান্তিনিকেতন, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কয়েক শত বিঘা জমি, বাংলো, বাগানবাড়ি, ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে ইডি। ইডির ধারণা কলকাতার একটি বস্ত্র বিপনি সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছে মন্ত্রী ও তার সহযোগীরা।