লেখক মুশতা‌কের গ্রেফতা‌রের পিছ‌নে ছি‌লো গোপালগ‌ঞ্জের এক ব্যাংক মা‌লিকের হাত।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:15 AM, 28 February 2021

কা‌শিমপুর কারাগা‌রে মারা যাওয়া লেখক মুশতাকের গ্রেফতারের পিছনে ছিলো এক ব্যাংকের মালিকের হাত। প্রভাবশালী এ ব্য‌ক্তির বা‌ড়ি গোপালগঞ্জ। এ ব্যাংক মা‌লি‌কের বিরুদ্ধে লেখক মুশতা‌কের কমেন্ট আর কার্টুন নিয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। জানা যায়, একই লোকের কাছ থেকে টাকা চেয়ে দেশের এক নিউজ পোর্টালের মালিক এখন বিপদে আছেন।

প্রয়াত মুশতাককে আপনি যত তুচ্ছ আর তার মতো লোক মরতেই পারে এমন ভাবেননা কেনো তার মৃত্যু দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। কারন জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের পর থেকে জেলখানায় মানুষের নিরাপত্তার পক্ষে জনমত গঠন করে আসছে আওয়ামী লীগ। জিয়ার মাফিয়া আমলে জেলখানার ভিতরে শতশত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হত্যা করা হয়।

এবার মুশতাকের মৃত্যুও অস্বাভাবিক। কারন বারবার তার জামিন ঠেকিয়ে দিয়ে হতাশায় মানসিক অস্বস্তিতে তার মৃত্যুর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। মৃত্যুর দিনও নাকচ হয় তার জামিনে মুক্তির আবেদন। এরপর তিনি চিরদিনের মুক্তি নিয়ে চলে গিয়ে অনেককে বিপদে ফেলে গেছেন।

মুশতাকের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে কল্পনা করুন। বিনা বিচারে আপনাকে আটকে রাখা হয়েছে, বারবার ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে আপনার জামিন, তখন কি আপনার খুব ফূর্তি লাগবে? ডিজিটাল আইনটির ভবিষ্যত নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

কারন আওয়ামী লীগ যে বিশেষ ক্ষমতা আইন করেছিল এর কুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এখন পর্যন্ত ডিজিটাল আইনে আওয়ামী লীগের কর্মীরাই বেশি ভূক্তভোগী তাঁরাই বেশি গ্রেফতার হচ্ছেন। নিত্য উস্কানি সৃষ্টি স্বত্তেও অনলাইন মৌলভী একজনের বিরুদ্ধেও এই আইন ব্যবহার করা হয়নি।

এখন নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে বাংলাদেশ যখন সম্পর্ক ভালো করতে চাইছে তখন মুশতাকের অনাবশ্যক ঘটনা ঘটলো। হোয়াইট হাউস থেকেও এই মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে। সরকার এসব আমলে নিয়ে এখন পর্যন্ত দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসন দক্ষতার সাথে সামাল দিতে পারে। এবারেরটাও পারবে। কিন্তু প্রশ্ন সরকারের এত কাজকর্ম, সাফল্যের মাঝে এসব উটকো ঝামেলার দায় যে সব দুধের মাছির স্বার্থে নেয়া হচ্ছে, এ দলটির লাখ লাখ ত্যাগী-নেতাকর্মীর সংগে এদের বিন্দুমাত্র সম্পর্কও নেই।

এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে একদল লোক ধেই ধেই করে ওঠেন। কিন্তু সময় মতো এদের কাউকে পাওয়া যাবেনা। এরা ভাগবেন। দৌড়ে ফার্স্ট হবেন। তখন আমাদের মতো বিদেশে থাকা লোকজনই কাজে লাগবে। ১/১১’র সময়ও বাইরে থেকে যা করার আমরাই করেছি।

আপনার মতামত লিখুন :