০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া এলএনজি ও ক্রুড অয়েল দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে : চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদূত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুন ২০২২
  • 15

রাশিয়া এলএনজি ও ক্রুড অয়েল দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে : চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদূত

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ মানতিতস্কি বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে এলএনজি ও ক্রুড অয়েল সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া  বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে  সার, গম ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করে থাকে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০১০ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনমাত্রা পেয়েছে। যার ফলে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, গ্যাস কূপ খনন ইত্যাদি খাতে রাশিয়ান বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত আছে। ২০২১ সালে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে আরএমজির পাশাপাশি হিমায়িত মৎস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে লজিস্টিকস, ব্যাংকিং চ্যানেল, ইত্যাদি সমস্যা বিদ্যমান যা, উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নিজ নিজ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। তিনি আগামীতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরো উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয় যা ২০১৭ সালে উভয় সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিশন গঠনে চুক্তির মাধ্যম বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি খাতে সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেয়। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পণ্য বহুমুখীকরণ এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণে এ চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম খাদ্য পণ্য, গম  ও সার সরবরাহকারী দেশ। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উভয়দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এ অবস্থার উন্নয়নে ব্যবসা সহজীকরণ ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাশিয়ান ফেডারেশনের অনারারী কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, রাশিয়া সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা সর্বদা কাজ করছি। এক্ষেত্রে বিদ্যমান যেকোন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে চেম্বার পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্র্রি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক ডা. মুনাল মাহবুব, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির প্রিন্সিপাল ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মাকসুদ, এপেক্স ফুডের পরিচালক মমিনউদ্দিন আহমেদ খান, এয়ার এরাবিয়ার কমার্শিয়াল ম্যানেজার ইকরামুল কবির রিয়াজ ও বিএসআরএম’র হেড অব কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজি এন্ড প্রজেক্টস মো. মনির হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অন্যান্য বক্তারা কাস্টম ক্লিয়ারেন্স সহজীকরণ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, ব্যাংকিং চ্যানেল ও আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপন, নিয়মিত বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাংলাদেশে রাশিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট প্রদর্শনের আয়োজন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, রাশিয়ান মার্কেটে প্রবেশ উপযোগী প্রশিক্ষণ ও গাইড প্রদান, বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি রপ্তানি, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা কেন্দ্র ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতার ভিত্তিতে মেডিক্যাল সরঞ্জাম উৎপাদন, স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যূনতম এক বছরের মাল্টিপল ভিসা চালু করা, ব্লু ইকনোমি, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০, ক্যাডেটদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তি ও উন্নত কারিগরি সহযোগিতা প্রদানসহ বিভিন্ন খাতের ওপর আলোচনা করেন।

সূত্র :-বাসস

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাশিয়া এলএনজি ও ক্রুড অয়েল দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে : চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদূত

Update Time : ১২:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুন ২০২২

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ মানতিতস্কি বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে এলএনজি ও ক্রুড অয়েল সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া  বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে  সার, গম ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করে থাকে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০১০ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনমাত্রা পেয়েছে। যার ফলে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, গ্যাস কূপ খনন ইত্যাদি খাতে রাশিয়ান বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত আছে। ২০২১ সালে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে আরএমজির পাশাপাশি হিমায়িত মৎস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে লজিস্টিকস, ব্যাংকিং চ্যানেল, ইত্যাদি সমস্যা বিদ্যমান যা, উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নিজ নিজ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। তিনি আগামীতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরো উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয় যা ২০১৭ সালে উভয় সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিশন গঠনে চুক্তির মাধ্যম বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি খাতে সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেয়। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পণ্য বহুমুখীকরণ এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণে এ চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম খাদ্য পণ্য, গম  ও সার সরবরাহকারী দেশ। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উভয়দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এ অবস্থার উন্নয়নে ব্যবসা সহজীকরণ ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাশিয়ান ফেডারেশনের অনারারী কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, রাশিয়া সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা সর্বদা কাজ করছি। এক্ষেত্রে বিদ্যমান যেকোন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে চেম্বার পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্র্রি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক ডা. মুনাল মাহবুব, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির প্রিন্সিপাল ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মাকসুদ, এপেক্স ফুডের পরিচালক মমিনউদ্দিন আহমেদ খান, এয়ার এরাবিয়ার কমার্শিয়াল ম্যানেজার ইকরামুল কবির রিয়াজ ও বিএসআরএম’র হেড অব কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজি এন্ড প্রজেক্টস মো. মনির হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অন্যান্য বক্তারা কাস্টম ক্লিয়ারেন্স সহজীকরণ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, ব্যাংকিং চ্যানেল ও আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপন, নিয়মিত বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাংলাদেশে রাশিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট প্রদর্শনের আয়োজন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, রাশিয়ান মার্কেটে প্রবেশ উপযোগী প্রশিক্ষণ ও গাইড প্রদান, বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি রপ্তানি, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা কেন্দ্র ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতার ভিত্তিতে মেডিক্যাল সরঞ্জাম উৎপাদন, স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যূনতম এক বছরের মাল্টিপল ভিসা চালু করা, ব্লু ইকনোমি, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০, ক্যাডেটদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তি ও উন্নত কারিগরি সহযোগিতা প্রদানসহ বিভিন্ন খাতের ওপর আলোচনা করেন।

সূত্র :-বাসস