‘মু‌জিববাদ’ থে‌কে ‘মু‌জিব’‌কে বাদ দেয়া স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতকদের রাজনীতি।

joybd24joybd24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:39 PM, 24 July 2021

মুজিববাদ থে‌কে মুজিব কি বাদ?
আগে ব‌লি মুজিববাদ কি? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চার মূলনীতির উপরে- বাঙালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক সমাজতন্ত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই চার নীতির উপরেই দেশ শাসনের সনদ দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিও এই চার নীতির উপরেই। এই চার নীতিই আসলে মুজিববাদ। তবে সম্প্রতি এই নীতিগুলা ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়া মনে হলো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ কি আসলেই এই নীতিগুলা মানছে? আওয়ামী লীগের-ছাত্রলীগের নেতারা কি মানছেন?

যেমন ধর্মনিরপেক্ষতার কথাই বলি। অ‌তি প‌ন্ডিতরা এটাকে বলে নাস্তিক্যবাদ। অথচ বঙ্গবন্ধু সেই সত্তরের নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট করে দি‌য়েছেন এর মানে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন বক্তৃতায় বলেছিলেন।

যেমন ১৯৭২ সালের ৭ জুন, রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ : “বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্ম নিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আল বদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।”

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে ভাষণ : “জনাব স্পিকার সাহেব, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দু তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাঁধা দেওয়া ক্ষমতা নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাঁধাদান করতে পারবে না। খ্রীস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাঁধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেঈমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, ধর্মের নামে খুন, ধর্মের নামে ব্যাভিচার- এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলছে।

ধর্ম অত্যন্ত পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি, সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করছি। যদি কেউ বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই, আমি বলবো সাড়ে সাতকোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যদি গুটি কয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়, তাহলে তা করতে হবে।”

১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ভাষণ : “আর একটা জিনিস। রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি করে , যারা সাম্প্রদায়িক, তারা হীন, নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে, সে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আপনারা যারা এখানে মুসলমান আছেন তারা জানেন যে, খোদা যিনি আছেন, তিনি রাব্বুল আলামিন, রাব্বুল মুসলেমিন নন। হিন্দু হোক, খৃষ্টান হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক, সমস্ত মানুষ তার কাছে সমান। সেজন্যই এক মুখে সোস্যালিজম ও প্রগতির কথা আরেকমুখে সাম্প্রদায়িকতা চলতে পারে না। সমাজতন্ত্র, প্রগতি আর সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি চলতে পারে না।”

ইদানিংকার কিছু নেতার বক্তৃতা বিবৃতি শুনলে মনে হয় তারা আসলে আওয়ামী মুসলিম লীগে ফেরত যেতে ইচ্ছুক। জামাতে ইসলামী হেফাজতের ভাষায় তারা বক্তৃতা দেন, হুমকি দেন। আমাদের কথা একটাই, মুজিববাদ না মে‌নে আপনি মুজিববাদের নেতা হ‌বেন কিভা‌বে? বিএনপি যেমন জিয়াকে বি‌ক্রি ক‌রে খায় তেমনি মুজিব‌কে বেচলে চলবে? নাকি আপনা‌দের নীতিতে মুজিবই বাদ!…