মিতু হ’ত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন পু’লিশের সাবেক এসপি বাবুল আকতার।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:23 PM, 13 May 2021

মাহমুদা খানম মিতু হ’ত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন তার স্বামী পু’লিশের সাবেক এসপি বাবুল আকতার। এর মধ্যে দুজনের স’ঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, বর্তমানে একজনের স’ঙ্গে সংসার করছিলেন তিনি।

মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ বুধবার দুপুরে এ ত’থ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মিতু মা’রা যাওয়ার আগে বাবুর (বাবুল আকতার) স’ঙ্গে ভারতের এক না’রীর স’ঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মিতু কৌশলে সেটা জেনে যায়। শুধু ওই না’রী নয়, আরও কয়েক জনের স’ঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।

যাদের মধ্যে দুই জনকে নিয়ে মিতুর মৃ’ত্যুর পর সে সংসার করেছে। আরেকটি বিয়ে করেছে পারিবারিকভাবে।’ মিতুর মা জানান, চট্টগ্রামে থাকার সময় ওয়েল ফুডে চাকরি করা এক না’রীর স’ঙ্গে বাবুলের পরিচয় হয়। মিতু মা’রা যাওয়ার পর ওই না’রীকে ঢাকায় এনে একস’ঙ্গে থাকতে শুরু করেন বাবুল। এক পর্যায়ে ওই না’রী বাবুলকে ছেড়ে চলে যান।

এরপর খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করেন বাবুল। তবে ওই সংসারও বেশি দিন টেকেনি। সবশে’ষ ৪-৫ মাস আগে কুমিল্লার এক মে’য়েকে তিনি বিয়ে করেন। মিতুর মায়ের অ’ভিযোগ কুমিল্লার মেয়েটির স’ঙ্গেও বাবুলের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল।

ওই মেয়ের স’ঙ্গে রাজধানীর মোহাম্ম’দপুরের বাবর রোডে থাকছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ৫ জুন মিতুকে হ’ত্যার পর বাবুল আকতার দুই স’ন্তানকে নিয়ে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায় শ্বশুরের বাসায় ওঠেন। মিতুর মা বলেন, সে সময় বাবুলের কা’ন্না ও ‘নিখুত অ’ভিনয়’ তাদেরকে বি’ভ্রান্ত করেছিল। তবে সময় যাওয়ার স’ঙ্গে স’ঙ্গে বাবুল স’ম্পর্কে তাদের ভু’ল ধারণা ভা’ঙতে শুরু করে।

শাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘তিন বছর আগে হ’ঠাৎ করেই সে (বাবুল) আমাদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আমার দুই নাতিকে নিয়ে চলে যায়।’ মিতুর মা শাহেদা মোশাররফ অ’ভিযোগ করেন, তাদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বাবুল তার দুই ছেলে-মেয়েকে নানা-নানির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। তিন বছরে এক বারের জন্যও মিতুর বাবা-মার স’ঙ্গে তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি।

মিতুর ছেলে রাজধানীর একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে বলে জানান শাহেদা মোশাররফ। আর মে’য়েকে সম্প্রতি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। শাহেদা বলেন, ‘আমার মেয়ে মা’রা যাওয়ার পর তার দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের বাকি সময় পার করতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু বাবুল ওদের আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখছে। আমাদের স’ঙ্গে দেখা করতে দেয় না, কথা বলতে দেয় না, আমাদের ফোন রিসিভ করে না। বাসায় গেলে দারোয়ান দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ‘অথচ মিতুর বিয়ের পর ওর থাকা-খাওয়া সবকিছুর ব্যবস্থা করতাম আমরা।

ওরা অন্যের বাসায় যাতে না থাকে সেজন্য আমরা ঢাকায় বাসা করে দিলাম। বিসিএসে পু’লিশ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই ওরা থাকত।’ মিতুকে হ’ত্যার অ’ভিযোগে গ্রে’প্তার হয়েছেন বাবুল আকতার। বাবুল-মিতু দম্পতির দুই স’ন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন মিতুর বাবা-মা।

মিতুর মা বলেন, ‘এখন ওদের কী হবে? এই দুইটা মুখে দিকে তাকিয়ে কটা দিন বাঁ’চতে চাইছিলাম। বাবু আমাদের স’ঙ্গে ওদের থাকতে দিলো না। আলাদা করে দিছে। বাচ্চাগুলো সৎ মার কাছে আছে। আমরা ওদের লালন-পালন করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, এই দুই শিশুকে আমাদের কাছে থাকতে দেয়া হোক।’

বাবুল আকতারের বি’রুদ্ধে মা’মলার পর নিজেদের নি’রাপত্তা নিয়ে শ’ঙ্কা জানিয়েছেন মিতুর মা শাহেদা মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘পরশু দিন (সোমবার) মিতুর বাবাকে পিবিআইয়ের ঢাকা অফিসে যেতে বলা হয়। আমরা এই মা’মলা নিয়ে আশা ছেড়ে দিছিলাম।

বিকেলে মিতুর বাবা বাসায় ফিরে এসে, শুধু বলল, মিতুর জন্য দোয়া করো, ভালো খব’র আছে। আমাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। এরপর ভোররাতে সেহরি করে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু এই খবরটা আমরা কাউকে জানতে দেইনি। ভ’য় ছিল, বাবুল বা বাবুলের লোকজন জানতে পারলে কোনো ঝা’মেলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাবুলকে পু’লিশ হেফাজতে নেয়ার পর থেকেই ভ’য়ে আছি। গেট এখন ব’ন্ধ করে রাখি। বাসায় আমার আরেক মে’য়ে ও মে’য়ের স্বামী তাদের স’ন্তানসহ থাকে। তাদের নি’রাপত্তা নিয়েও ভ’য় হচ্ছে।’

মা’মলাটি নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়ায় এবার সঠিক বি’চারের আশা দেখছেন মিতুর মা। তিনি বলেন, ‘বাবুলের অ’বৈধ সম্পর্ক মিতু জেনে গিয়েছিল, এটা কি তার অ’পরাধ। ওকে নিয়ে সংসার না করতে চাইলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিত। কিন্তু ওকে কেন হ’ত্যা করল? ও (বাবুল) প’রিকল্পিতভাবে আমার মে’য়েকে মে’রেছে, আমরা সঠিক বি’চার চাই।’

আপনার মতামত লিখুন :