মা‌ইকের আওয়াজ সী‌মিত রাখার ঘোষণায় সৌ‌দি‌তে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:04 PM, 01 June 2021

গত ২৩ মে সউদী আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গোটা মরুদেশে জারি করেন একটি সার্কুলার। যাতে বলা হয় দেশটির সব মসজিদে মাইকের আওয়াজ এক-তৃতীয়াংশ রাখা এবং আজান ও ইকামত ছাড়া ব্যবহার না করার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। এই ঘোষণায় দেশটিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সে কারণে সোমবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখা করা হয়।

সউদীর ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ আল শেখ এই সার্কুলার ঘোষণা করে বলেছিলেন, তার এমন সিদ্ধান্তের কারণ দেশের জনগণ। বিভিন্ন মহল থেকে আসা প্রতিক্রিয়ার জন্য এমন সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছে দেশ। তিনি জানান, মসজিদের আজানের উচ্চ শব্দ নিয়ে যারা অভিযোগ করেছেন তাদের মধ্যে অনেক বাবা-মা আছেন, লাউডস্পিকারের শব্দে তাদের শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে এর পর চুপ করে থাকেননি দেশটির একদল রক্ষণশীল মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি মসজিদের মাইকে যদি কিছু মানুষের অসুবিধা হয় তবে রেস্তোঁরা ও ক্যাফেগুলিতে যখন উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়, সেগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই নিয়ে একটি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড হতে শুরু করে। এর পর বহু প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো একটি ভিডিওতে বক্তব্য রেখে লতিফ আল শেখ বলেছিলেন, যারা প্রার্থনা করতে চান তাদের ইমামের নামাজের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। সোশ্যাল মাধ্যমে যারা এই আন্দোলন করেছেন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তারা আসলে ‘দেশের শত্রু’।

সউদীর ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমান সউদী আরবকে বিশ্ব দরবারে আরও উদারপন্থী দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই জনগণ যেটা বেশি চাইছেন সেই দিকে তিনি লক্ষ্য রাখছেন। কিছু সামাজিক নিষেধাজ্ঞাগুলিকে তিনি উঠিয়ে দিয়েছেন, যেমন দেশে মহিলারা গাড়ি চালাতে না পারার উপর নিষেধাজ্ঞা তিনি উঠিয়ে দিয়েছেন।

প্রিন্সের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের গ্রেফতার করে কারাবন্দী করা হয়েছে। তবে মসজিদে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সার্কুলার দেশের অন্দরে ফের ধর্মীয় জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :