০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাঠপ্রশাসনে বড় রদবদল চায় ইসি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য মাঠপ্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের রদবদল চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। শিগগিরই আরও বড় ধরনের রদবদল করা হবে।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইতোমধ্যে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ওসিদের বদলি করতে জননিরাপত্তা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে ইসি। ওই চিঠিতে প্রথম পর্যায়ে একই উপজেলা ও থানায় থাকা ইউএনও ও ওসিদের বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ডিসি ও এসপিকে প্রত্যাহার করার জন্য বলেছে ইসি। তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী পক্ষপাত ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব চিঠি পাঠিয়েছে ইলেকশন কমিমন (ইসি)।

জানা গেছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশিরভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা প্রার্থী হয়েছেন। মাঠপ্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে তাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা উভয়ই বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তারা পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়ন জমা বা উঠানোর সময় ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। তাই মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ পদেক্ষপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। দু-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি জানতে পারবেন। আপাতত এর বেশি কিছু বলছি না।

ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, মো. আনিছুর রহমান, রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মাঠপ্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকে ইউএনও এবং থানার ওসিদেরও ডাকা হয়। চার কমিশনারের জেলা পর্যায়ে সফরে গিয়ে মাঠপ্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষপাতের অভিযোগ পান। বিষয়টি নিয়ে কমিশনে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সব থানার ওসিদের পর্যায়ক্রমে বদলির জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। প্রথম পর্যায়ে যারা বর্তমান কর্মস্থলে ৬ মাসের অধিক সময় রয়েছেন তাদের অন্য জেলা বা থানায় বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে অর্থাৎ ইউএনওদের বদলির বিষয়ে একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এই বদলিতে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজের স্পৃহা ও মনোবলে যেন চিড় না ধরে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসি। তাই বদলির বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে কমিশন।

প্রসঙ্গত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :
About Author Information

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মাঠপ্রশাসনে বড় রদবদল চায় ইসি

Update Time : ০৪:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য মাঠপ্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের রদবদল চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। শিগগিরই আরও বড় ধরনের রদবদল করা হবে।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইতোমধ্যে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ওসিদের বদলি করতে জননিরাপত্তা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে ইসি। ওই চিঠিতে প্রথম পর্যায়ে একই উপজেলা ও থানায় থাকা ইউএনও ও ওসিদের বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ডিসি ও এসপিকে প্রত্যাহার করার জন্য বলেছে ইসি। তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী পক্ষপাত ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব চিঠি পাঠিয়েছে ইলেকশন কমিমন (ইসি)।

জানা গেছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশিরভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা প্রার্থী হয়েছেন। মাঠপ্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে তাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা উভয়ই বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তারা পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়ন জমা বা উঠানোর সময় ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। তাই মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ পদেক্ষপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। দু-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি জানতে পারবেন। আপাতত এর বেশি কিছু বলছি না।

ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, মো. আনিছুর রহমান, রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মাঠপ্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকে ইউএনও এবং থানার ওসিদেরও ডাকা হয়। চার কমিশনারের জেলা পর্যায়ে সফরে গিয়ে মাঠপ্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষপাতের অভিযোগ পান। বিষয়টি নিয়ে কমিশনে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সব থানার ওসিদের পর্যায়ক্রমে বদলির জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। প্রথম পর্যায়ে যারা বর্তমান কর্মস্থলে ৬ মাসের অধিক সময় রয়েছেন তাদের অন্য জেলা বা থানায় বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে অর্থাৎ ইউএনওদের বদলির বিষয়ে একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এই বদলিতে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজের স্পৃহা ও মনোবলে যেন চিড় না ধরে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসি। তাই বদলির বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে কমিশন।

প্রসঙ্গত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।