মদ্যপ অবস্থায় এক ইমামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:49 AM, 31 May 2021

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয় এক ইমামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হাসান মিয়া নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

হাসান মিয়া শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে হাসান মিয়া বলেছেন, তিনি কোন ইমামকে লাঞ্ছিত করেননি। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩০ মে) সকালে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ী জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় একটি মাজারকে ঘিরে অশ্লীলতা ও গান বাজনা বন্ধ নাকি চালু রাখা হবে এই প্রশ্নে স্থানীয় মুসল্লি, জনপ্রতিনিধি এবং মাজার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার জন্য সভার আয়োজন করা হয়।

একপর্যায়ে সেখানে ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া উপস্থিত হয়ে গান-বাজনা খারাপ কিছু নয় বলে সাফাই গাইলে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন।

এ ঘটনার রেশ ধরে ওই দিন দুপুরে বাঁশতলা দারুল হেদায়েত হাদিস উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানার ইমাম মাওলানা ওমর ফারুককে চারাগাঁও হাওর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন ইউপি সদস্য হাসান মিয়া।

বিষয়টি জানতে পেয়ে মাদ্রাসার ছাত্র ও স্থানীয় মুসল্লিরা ওই ইউপি সদস্যের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বাঁশতলা দারুল হেদায়েত হাদিস উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানার ইমাম মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, ইউপি সদস্য হাসান মিয়া মদ্যপ অবস্থায় আমার পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ‘হেফাজত’ ও ‘জামাতি’ বলে গালাগাল করে। পরে এ ঘটনাটি সভাস্থলে এসে জানালে স্থানীয় মুসল্লিরা তার বিরুদ্ধে জুতা মিছিল করে এবং তারা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বসে মিটমাট করে দেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মিয়া জানান, মাজারে গান বাজনা বিষয় নিয়ে জামায়াত ও হেফাজত নেতারা আলোচনায় বসলে আমি সেখানে গিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করতে অপারগতা প্রকাশ করে চলে আসি। আমি কোন ইমামকে লাঞ্ছিত করেনি।
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, ইউপি সদস্য দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি মাদ্রাসার লোকজন আমাকে জানিয়েছেন। জরুরি কাজে বাহিরে থাকায় উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার জন্য আমি অনুরোধ করেছি ।
তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা আমি শুনেছি। তবে থানায় এখনও কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেনি।

আপনার মতামত লিখুন :