০২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মগবাজার বি‌ষ্ফোর‌ণে আহ‌তের সংখ্যা ৪০০ ছা‌ড়ি‌য়ে‌ছে, বাড়‌তে পা‌রে মৃ‌তের সংখ্যা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১
  • 14

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফেরণে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৫টি হাসপাতালে কমপক্ষে চারশো জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় মাগবাজারে সাড়ে ৭টার দিকে ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিস্ফোরণে ভবন ও ভাঙা কাঁচ পড়ে রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের উপর। এসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সড়কে থাকা দুটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হয় বাসের যাত্রীরা।

এ ঘটনায় তিনতলা একটি ভবন ধ্বসে পড়ে। এসময় আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে পড়ে।

আহতদের দ্রুততার সঙ্গে কাছাকাছি ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল, আদ-দ্বীন হাসপাতাল ও হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে।

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের আউটডোর ইনচার্জ আ জ ম রহমতউল্লাহ সবুজ জানান, কমিউনিটি হাসপাতালে আসা বেশিরভাগেরই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটাছেঁড়া, মাথায় আঘাত ছিল। দুজন হাসপাতালে আনার পরই মারা গেছেন। চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের সংখ্যা তিনশোর কাছাকাছি বলে জানান তিনি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণে বেশিরভাগেরই কাঁচের আঘাতে কেটে গেছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অবস্থা খুবই বাজে ছিল। আমাদের চিকিৎসকরা খুব দ্রুত সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এখন আর কেউ ভর্তি নেই।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনার পর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন।

আহতদের বেশিরভাগই শরীর পোড়া অথবা মাথায় আঘাত নিয়ে এসেছিলেন। একজন হাসপাতালের আনার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্ন নিয়ে এসেছিল অনেকে, অনেক রোগীর হেড ইনজুরি ছিল। দগ্ধ রোগীদের মধ্যে যারা সিভিয়ার তাদের এখানে রাখতে পারিনি। যেটুকু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায় দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দিয়েছি। যাদের মাইনর ইনজুরি ছিল তাদেরকে আমাদের এখানে চিকিৎসা দিয়েছি আমাদের জরুরি বিভাগে। এখনও তিন-চারজন আমাদের এখানে ভর্তি আছেন।

হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ১০ জনকে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ জন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, মাথায় আঘাত নিয়ে এসেছেন বেশিরভাগ রোগী।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে ১৭ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বাকিদের মধ্যে তিনজন দগ্ধ রোগী। এদের দুজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দুজনেরই ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বাকিদের সবাই আহত এবং তাদের শরীরে ভাঙা ও কাটাছেঁড়া জখম রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ১০টার দিকে জান্নাত (২৩) নামে এক নারী মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আসা রোগীদের অনেকেরই মাথায় আঘাত ছিল। অর্থোপেডিক রোগীও ছিল কয়েকজন। তাদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকের শরীর পোড়া ছিল, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, মগবাজারের ঘটনায় ৪৪ জন ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন।তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মগবাজার বি‌ষ্ফোর‌ণে আহ‌তের সংখ্যা ৪০০ ছা‌ড়ি‌য়ে‌ছে, বাড়‌তে পা‌রে মৃ‌তের সংখ্যা।

Update Time : ১১:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফেরণে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৫টি হাসপাতালে কমপক্ষে চারশো জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় মাগবাজারে সাড়ে ৭টার দিকে ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিস্ফোরণে ভবন ও ভাঙা কাঁচ পড়ে রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের উপর। এসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সড়কে থাকা দুটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হয় বাসের যাত্রীরা।

এ ঘটনায় তিনতলা একটি ভবন ধ্বসে পড়ে। এসময় আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে পড়ে।

আহতদের দ্রুততার সঙ্গে কাছাকাছি ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল, আদ-দ্বীন হাসপাতাল ও হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে।

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের আউটডোর ইনচার্জ আ জ ম রহমতউল্লাহ সবুজ জানান, কমিউনিটি হাসপাতালে আসা বেশিরভাগেরই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটাছেঁড়া, মাথায় আঘাত ছিল। দুজন হাসপাতালে আনার পরই মারা গেছেন। চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের সংখ্যা তিনশোর কাছাকাছি বলে জানান তিনি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণে বেশিরভাগেরই কাঁচের আঘাতে কেটে গেছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অবস্থা খুবই বাজে ছিল। আমাদের চিকিৎসকরা খুব দ্রুত সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এখন আর কেউ ভর্তি নেই।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনার পর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন।

আহতদের বেশিরভাগই শরীর পোড়া অথবা মাথায় আঘাত নিয়ে এসেছিলেন। একজন হাসপাতালের আনার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্ন নিয়ে এসেছিল অনেকে, অনেক রোগীর হেড ইনজুরি ছিল। দগ্ধ রোগীদের মধ্যে যারা সিভিয়ার তাদের এখানে রাখতে পারিনি। যেটুকু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায় দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দিয়েছি। যাদের মাইনর ইনজুরি ছিল তাদেরকে আমাদের এখানে চিকিৎসা দিয়েছি আমাদের জরুরি বিভাগে। এখনও তিন-চারজন আমাদের এখানে ভর্তি আছেন।

হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ১০ জনকে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ জন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, মাথায় আঘাত নিয়ে এসেছেন বেশিরভাগ রোগী।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে ১৭ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বাকিদের মধ্যে তিনজন দগ্ধ রোগী। এদের দুজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দুজনেরই ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বাকিদের সবাই আহত এবং তাদের শরীরে ভাঙা ও কাটাছেঁড়া জখম রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ১০টার দিকে জান্নাত (২৩) নামে এক নারী মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আসা রোগীদের অনেকেরই মাথায় আঘাত ছিল। অর্থোপেডিক রোগীও ছিল কয়েকজন। তাদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকের শরীর পোড়া ছিল, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, মগবাজারের ঘটনায় ৪৪ জন ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন।তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।