ব্রি‌টিশ প্রধানমন্ত্রী ব‌রিস জনস‌নের জীব‌নে আর্থিক টান‌পোড়ন কিংবা কি‌প্টেমি।

joybd24joybd24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:05 PM, 08 July 2021

ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে দেখা যায়নি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। সরকারি বেতনে তার পোষায় না। তবে শখ-আহ্লাদ আছে ভরপুর। বিলাসিতাতেও অরুচি নেই। এদিকে তার কিপ্টামোর গল্পও ব্রিটিশদের মুখে মুখে।

বরিস জনসনের কিপ্টামোর একটি ঘটনা প্রকাশ করেন ডেইলি টেলিগ্রাফের চিফ এডিটর ম্যাক্স হ্যাসটিংস। তখন জনসনের বস ছিলেন হ্যাসটিংস। ২০১০ সালের নির্বাচন নিয়ে বসের সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন তিনি। সেই বাজিতে জিতেন হ্যাসটিংস। এরপর জনসন তাকে একটি চিঠি পাঠান, যাতে লেখা ‘চেক সংযুক্ত’। কিন্তু চিঠির সঙ্গে কোনো চেক খুঁজে পাননি হ্যাসটিংস।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কিপ্টামোর উদাহরণ আরও আছে। কফি-বৈঠকে কখনই কফির দাম পরিশোধ করেন না তিনি- ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটরসের তরুণ সাংবাদিকদের এই দাবি। একবার জেনিফার আরকুরিকে রোমান্টিক সাক্ষাতে নিয়ে গিয়ে উল্টো তার কাছ থেকেই ৩.১০ পাউন্ড ধার করে পানীয়র মূল্য পরিশোধ করেন। খাওয়া নিয়েও কটুক্তি শুনিয়েছেন চেকারসের অতিথিদের। চেকারসে খাবার পরিবেশনের সময় বরিসকে বলতে শোনা যায়, এক বিন্দুও নষ্ট করা চলবে না। এসবের জন্য আমাকে বিল দিতে হবে।

সম্প্রতি বরিস জনসনের ফ্ল্যাট সাজানো নিয়ে যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেখানেও শোনা যাচ্ছে- এতে নাকি তার কোনো খরচই করতে হয়নি। ১১নং ডাউনিং স্ট্রিটের ফ্ল্যাটটি পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে ৬০ হাজার পাউন্ডের মতো খরচ হওয়ার কথা। আর ফ্ল্যাটটির দাম প্রায় ২ লাখ পাউন্ড।

প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন সহযোগী ডমিনিক কমিংস অভিযোগ করেছেন, বরিস জনসন এই কাজের জন্য বিভিন্ন দাতার কাছ থেকে গোপনে অর্থ নিতে চেয়েছেন। এদিকে টরি এমপিদের দাবি, এই অর্থ পরিশোধে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত লোনের আবেদন করেছেন।

আপাতত এই বিতর্ক বাদ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসনের আয় বছরে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭২ পাউন্ড। যা তার চাহিদার তুলনায় যথেষ্টই বলা যেতে পারে। বিশেষ ভোজনের বেলায় পিজা এক্সপ্রেসের খাবার অর্ডার করতে দেখা যায় তাকে। লন্ডনের মেয়র থাকা কালে একই হুডি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে তাকে অনেকদিন। ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস করতে তাকে কোনো ভাড়াই গুনতে হচ্ছেনা। তাহলে তার কিসের এতো অর্থকষ্ট?

মজার বিষয় হচ্ছে, তার বর্তমান বেতনকে ‘পে কাট’ বললে ভুল হবে না। কারণ, আগে পত্রিকার কলাম, বক্তৃতা, টেলিভিশন উপস্থিতি এবং বইয়ের রয়্যালিটি থেকে তিনি বছরে ৮ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতেন। বর্তমানে অতিরিক্ত আয় হিসেবে কেবল বইয়ের রয়্যালিটি বাবদ ১০ হাজার পাউন্ডের মতো পান।

এবার আসা যাক বরিসের ‘প্রেমঘটিত’ বিষয়ে; গায়ে কিপ্টের তকমা লাগলেও এ খাতে দেদারসে খরচ করেছেন অথবা করতে হয়েছে।

২০১৮ সালে মেরিনা হুইলারের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের সুরাহায় গুনতে হয়েছে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড। বরিস-মেরিনার রয়েছে চার সন্তান, যাদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন।

উপদেষ্টা হেলেন ম্যাকিন্টায়ারের সঙ্গে প্রেম করার সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সচেতন না থাকায় বরিসের জীবন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠে। এই জুটির কন্যা সন্তানের বয়স এখন ১২।

বর্তমান প্রেমিকা ক্যারি সাইমন্ডসের অবশ্য কেম্বারওয়েলে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বাড়ি আছে। বাড়িটি অন্য কারো কাছে ভাড়া দিলে কিছু উপার্জনের সুযোগ ছিল। কিন্তু এই বাড়িতে মাঝে মাঝে ছুটি কাটাতে যান নবজাতকের বাবা-মা (যে নবজাতকের জন্য ন্যানি নিয়োগেরও স্বামর্থ নেই এই জুটির)।

অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের মতো কোটিপতি বউ নেই বরিসের। বাগদত্তা সায়মন্ডস একটি এনিমেল চ্যারিটিতে কাজ করেন। খরচের ভয়েই হয়তো সায়মন্ডসকে এখনো বিয়ে করা হয়ে উঠছে না বরিসের।

প্রায় সারা জীবনই আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটিয়েছেন বরিস জনসন। প্রাথমিক জীবনে ইটন কলেজের স্কলারশিপের টাকা দিয়ে অর্থকষ্টে জর্জরিত পরিবারের হাল ধরেছেন।

ব্রিটেনের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের সঙ্গে আর কোনো বিষয়ে বরিস জনসনের মিল না থাকলেও, এই একটা বিষয়ে দুজনের অনেক মিল। চার্চিলও আর্থিক দুশ্চিন্তায় জীবন কাটিয়েছেন, এমনকি একবার দেউলিয়া হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল তার।