বাকস্বাধীনতা যখন ভন্ডামী!

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:56 AM, 07 March 2021

এই দেশের আদালতে সকল স্বাক্ষ্য প্রমান বাদী বিবাদীর জেরা দীর্ঘ ১০ বছর চলার পরে বেগম খালেদা জিয়ার একটি দুর্নীতি মামলার রায় বের হলো। তারপরে বিএনপি তো বটেই মাঝখানে এক ধরনের ফরিয়া হকার জামাতি, বামাতি, নুরা, মুরা, সাকি, ফাকি কামলারা দাঁড়িয়ে গেলো। ফেসবুকে প্রশ্ন তুলতো মাত্র দুই কোটি টাকার দুর্নীতি! এইটা কি খুব বেশী টাকা হয়ে গেলো? যেখানে শয়ে শয়ে কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে বা চলছে, এর মধ্যে মাত্র দুই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলো?

এই একই ব্যক্তিরা জি কে শামীমের দুর্নীতির বিষয়ে খুব সোচ্চার। জিকে শামীমের ফাঁসি চাচ্ছে তারা এমনকি জিকে শামীম আদালতে ভুল তথ্য দিয়ে জামিন পেয়ে গিয়েছিলো। এই পক্ষটা তখন জিকে শামীমের জামিন পাওয়ার বিরোধিতা করে এই ফেসবুকে লম্বা বিপ্লবী কথা বলে বিপ্লব করেছে।

অর্থ্যাৎ খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে আইন মাত্র সামান্য, জিকে শামীমের ক্ষেত্রে আইন বাঘের বাচ্চা।

বাংলাদেশে আইনের সঠিক ব্যবহার যাতে হয় সেই বিষয়ে সরকারী কর্মকর্তারা সোচ্চার ভুমিকা পালন করেছে। ২ কোটি টাকার দুর্নীতি মাত্র কিছুই না বা শ’কোটি টাকার দুর্নীতি বাঘের বাচ্চা সেদিকে হাটেনি, আদালতে জিকে শামীমের দুই নাম্বারী তথ্য দিয়ে জামিনের গোমর বের করে সেই জামিন বাতিল হয় যেন সেই অনুযায়ী নিদৃষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা আবেদন করে জামিন বাতিলের রায় হাসিল করেছে।

তারপরে সম্রাটের কথাই বলি। আওয়ামী লীগের অত্যান্ত দুঃসময়ের লড়াকু যোদ্ধা, সৈনিক ছিলো। সেই সম্রাট সুনিদৃষ্ট অভিযোগে এখন কারাগারে আছেন। সম্রাটের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্রাটের শারিরিক সমস্যা, অসুস্থতা ইত্যাদি বলে বার বার জামিনের আবেদন জানিয়েই যাচ্ছে। জামিন পাচ্ছে না। কথার কথা আগামীকাল যদি সম্রাটের জামিন হয়ে যায়, তখন বাকস্বাধীনতার কাউয়ারা কিন্তু দেশে আইনের শাসনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলবে। সরকার, বিচারক, আদালত, আইনের গুষ্ঠি উদ্ধার করে বিপ্লবী ষ্ট্যাটাসে আন্দোলন শুরু করবে। একই ভাবে, চিটার বাটপার সাব্রিনা, শাহেদ, খালেদ বা আদার্স যেসব আলোচিত মামলা ঐসব আসামীদের যদি জামিন হয়, তাহলেও কিন্তু ফেসবুকে বিপ্লব হবে, কেউ ডিফেল্ট করলেই কেল্লাফতে। বাকস্বাধীনতা হরনের অভিযোগ শুনতে হবে।

অথচ আজকে যারা মুশতাক, কিশোরের জন্য কেঁদে কেটে ফেসবুক ভাসিয়ে ফেলছে, অভিযোগ করছে বিনা বিচারে আটকে রেখে মুস্তাক হত্যা হয়েছে, কিশোরের কান দিয়ে পুজ বের হয়েছে সরকার অমানবিকতায় ইত্যাদি। প্রশ্ন হলো আগামীকাল যদি আগে থেকেই অসুস্থ সম্রাট কারাগারে মারা যায়, তখন বিএনপি জামাতি, বামাতি, নুরা ফুরা সাকি মাকিরা ফেসবুকে কি ষ্ট্যাটাস দিবে? আলহামদুলিল্লাহ নাকি বিনা বিচারে হত্যার?

কার্টুন… কার্টুনের অনুভুতির নগদ প্রমান। আলগা আলগা হিসেব করলে এখনো ক্ষত শুকায় নি। সেই ফ্রান্স দেশকে কি কার্টুন আঁকছে বা না আঁকছে, বাংলাদেশে কিন্তু সেটা নিয়ে তুলকালাম কান্ড হয়েছে। ফ্রান্স দেশের দুতাবাস ঘেরাও, কুটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নের আহব্বান, এমনকি এই যে আজকে কিশোরের কার্টুনের পক্ষে দাঁড়ানো নুরা ফুরা সাকি মাকী বিএনপি জামাতি বামাদি কুলাঙ্গারেরা রাস্তায় নেমেছে, ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস প্রসব করেছে, যাতে সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। আগেই বলেছি, সেই ক্ষত এখনো শুকায় নাই, অথচ সেই আন্দোলন যারা করছিলো, তারাই বাংলাদেশে কিশোরের আঁকা করোনা মহামারীর ব্যাঙ্গাত্মক কটুক্তি মুলক কার্টুনের পক্ষে দাঁড়িয়ে শরীর চুলকাচ্ছে।

কল্পনা করা যায়, বাকস্বাধীনতা ঠিক কোন কারনে ভন্ডামীর পর্যায়ের।

আসেন এবার অন্য একটি প্রসঙ্গ বলি, ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ফ্যান ফলোয়ার আছে। সেই তারা গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে নিজের বাকস্বাধীনতা প্রকাশ করবে উপায় নেই, নিজেদের বাকস্বাধীনতা চাই দাবীকারী বিএনপি, জামাতি, বামাতি, নুরা ফুরা, সাকি মাকীরা আওয়ামী লীগের ফ্যান ফলোয়ারদের আইডি, ষ্ট্যাটাসে রিপোর্ট করছে, স্কিনশট নিয়ে দালাল ফালাল লিখে ষ্ট্যাটাস দিচ্ছে, ইনবক্সে কাউকে কাউকে আর মাত্র কয়েকদিনের হুমকি দিচ্ছে… কল্পনা করা যায়, কি পরিমান ফ্যাসিষ্ট হলে অন্যের বাকস্বাধীনতা হরন বা বাধাগ্রস্ত করে নিজেদের বাকস্বাধীনতার দাবী জানাচ্ছে, এইসব ভন্ডের দলেরা…

কথা হলো, যুক্তি লজিক যাই বলি আর না বলি, বাকস্বাধীনতা মানে নিজের পরিপুর্ন চাপাবাজি, মিথ্যা ভন্ডামী, আজব গুজব ব্যক্তি আক্রমনের পুর্ন অধিকারের নিশ্চয়তা আদায়, অপরের বাকস্বাধীনতাকে দালালী আখ্যা দিয়ে ক্রিটিসাইজ করা ব্যাক্তিরা কোন ভাবেই বাক স্বাধীনতা প্রকাশের দাবীদার হতে পারে না।

আওয়ামী লীগ সরকারে আজকে আছে, কালকে থাকবে না, তার জন্য ভন্ডামী করতে হবে কেন? আর কথায় কথায় বিনা ভোটের সরকার বলা কিছু চামচা বামাতি, জামাতি ধামরা চামুডাদের বলছি, তোদের ভাষার বিনা ভোটের সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সরকারী কর্মকর্তা বা ক্ষমতার কাছে থাকা, এমন ব্যক্তিদের পা চেটে যখন অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করিস, তখন মনে থাকে না কেন, ইহা বিনা ভোটের অবৈধ সরকারের মন্ত্রী এমপি নেতাদের পা চেটে টাকা ইনকামের জবাবও একদিন দিতে হবে…

আপনার মতামত লিখুন :