বহুল প্র‌তি‌ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ ক‌মি‌টি পে‌লো চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। এবার আস‌ছে মহানগর ক‌মি‌টি।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:09 AM, 10 February 2021

সম্মেলনের ১৫ মাসের মাথায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালামকে সভাপতি ও আতাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ অনুমোদন দেন। কমিটি গঠন নিয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিরোধ থাকলেও শেষ সালাম-আতাউরের পাঠানো কমিটিই কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পেয়েছে।

উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম জয়‌বি‌ডি২৪ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা আগে যেভাবে কেন্দ্রে লিস্ট পাঠিয়েছিলাম সেভাবেই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এতে কাউকেই বঞ্চিত করা হয়নি। সিনিয়র সহ সভাপতি করা হয়েছে অধ্যাপক মাইনুদ্দিনকে আর এক নম্বর সদস্য করা হয়েছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাউজানের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে।’

দলীয় সূত্র জানায়, পূর্নাঙ্গ কমিটিতে ১১ জন সহ-সভাপতি, ৩ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৩ জন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৩৫ জনকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে তিন সাংসদকেও। তারা হলেন, রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা ও সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে অধ্যাপক মো. মাইনুদ্দিন হাসান, সহ সভাপতি পদে- অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন, মহিউদ্দিন আহমেদ রাশেদ, আবুল কালাম আজাদ, মো. রফিকুল ইসলাম, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, আবুল কাশেম চিশতী, এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, স্বজন কুমার তালুকদার ও জসীম উদ্দিন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন হলেন, নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, দেবাশীষ পালিত ও জসীম উদ্দিন শাহ।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৩ জন হলেন, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, মহিউদ্দিন বাবুল ও নজরুল ইসলাম তালুকদার।

কোষাধ্যক্ষ পদে আফতাব খান অমি। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেবুন নেছা জেসি। দপ্তর সম্পাদক নুর খান, উপ দপ্তর সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ। আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. আলী শাহ। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান প্রিয়া। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাফর আহমদ। যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন তালুকদার। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবু তালেব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন। শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উল আলম লাভলু। সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাবেরী। শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সেলিম। শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মহসীন জাহাঙ্গীর। কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আজগর। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিকদার এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. মোস্তফা।

কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন, রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা ও সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, মো. আবুল বশর, মো. গিয়াস উদ্দিন, ডা. শেখ শফিউল আজম, ইউনুচ গনি চৌধুরী, শওকত আলম, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বেদারুল আলম চৌধুরী, শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান রুহেল, কাজী মো. ইকবাল, মো. ইদ্রিস, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী বাবুল, দিদারুল আলম বাবুল, মো. আলী খসরু, আফতার হোসেন খান, ডা. নুরুদ্দিন জাহেদ, রুস্তম আলী, মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. সেলিম উদ্দিন, শাহেদ সরওয়ার শামীম, ভূপেশ বড়ুয়া, সরওয়ার্দ্দী সিকদার, গোলাম রব্বানী, ফেরদৌস হোসেন আরিফ, আবদুল হালিম, রাজিবুল হাসান সুমন, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, হাসিবুল সোহাদ চৌধুরী শাকিব, আফতার উদ্দিন মাহমুদ পারভেজ ও মনজুর মোরশেদ ফিরোজ।

এছাড়া এক নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সালামের সাথে ভোটের লড়াইয়ে হেরে যাওয়া রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আর আতাউর রহমানের সাথে সেক্রেটারি পদে হেরে যাওয়া গিয়াস উদ্দিনকেও রাখা হয়েছে সদস্য পদে।

সালাম-আতাউর প্যানেলের বিরোধীতাকারীদেরও কম গুরুত্বপূর্ণ পদে হলেও কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্মেলনে ৩৬৬ জন কাউন্সিলর প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ আতাউর রহমানকে বিজয়ী করেন। কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটাভুটিতে সভাপতি পদে বিজয়ী এমএ সালাম পেয়েছিলেন ২২৩ ভোট ও নিকটতম এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী পেয়েছিলেন ১২৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী শেখ আতাউর রহমান পেয়েছিলেন ১৯৬ ভোট এবং গিয়াস উদ্দিন পান ১৫৪ ভোট।

কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও যুগ্ম সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কমিটিতে কারা থাকতে পারবেন সে বিষয়ে পৃথকভাবে দুই নেতার মতামতও নিয়েছেন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার পর ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম চৌধুরী উত্তর জেলা আ. লীগের সভাপতি হন। নুরুল আলম চৌধুরীর মৃত্যু পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। কাউন্সিললে ফজলে করিম সভাপতি প্রার্থী হলেও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এম এ সালামের কাছে পরাজিত হন তিনি।

২০২০ সালের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া তালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত কমিটিতে কারা আছেন বা নেই তা প্রকাশের পর সৃষ্টি হয় জেলার রাজনীতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সেসময় প্রস্তাবিত কমিটিতে ত্যাগীদের অবহেলা ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের অবনমিত করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তিকেও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে প্রস্তাবিত কমিটি। আর এজন্য অভিযোগের আঙুল উঠেছিল খোদ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রতি।

এ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত কমিটির অসঙ্গতি, পদায়নে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিত নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবন কার্যালয়ে দেখা করে নিজেদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবেন তাদের কমিটি অনুমোদন করা হবে না। যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দেবেন, দরকার হলে তাদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।’

এরপর প্রায় ৯ মাস পর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর দলীয় হাইকমান্ড থেকে সভাপতি এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানকে কেন্দ্রে ডাকা হয়। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সেই বিতর্কিত কমিটি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে যতই দৌঁড়ঝাপ আর বিলম্ব হোক না কেন কমিটি ঘোষিত হয়েছে সভাপতি সালাম ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের পাঠানো তালিকা ধরেই।

আপনার মতামত লিখুন :