বহিরাগত এনে শোডাউন,স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেটালেন নৌকার সমর্থকদের

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:00 PM, 14 June 2022
বহিরাগত এনে শোডাউন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট হয়ে পেটালেন নৌকার সমর্থকদের

চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে এসে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যানসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। ওই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দীন আরও ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে একজোট হয়ে নৌকার প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। আর এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
সোমবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন ও মাহাতা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বটতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান চৌধুরী, বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওয়াব আলী, চাতরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরু, যুবলীগ নেতা জালাল, ছাত্রলীগ নেতা মো. জুয়েলসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যেবৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওয়াব আলী, চাতরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরু, যুবলীগ নেতা জালালের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মো. কামাল নামে পুলিশের এক সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের ওষখাইনে নৌকার প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন চাতরীর নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে মাহাতা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন বৈরাগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে নৌকার কিছু নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজিম উদ্দীন সুজনের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায়। তখন নাজিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী চৌধুরী, হাসান জিয়াউল ইসলাম, মো. আব্দুল মালেক মানিক ও মো. নাজিমের সমর্থকদের একজোট করে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্য কামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হয়।এসময় নৌকা সমর্থকদের বেশকিছু মোটরসাইকেলও ভাংচুর করা হয়।
নৌকার প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরী বলেন, উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানো পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একজোট হয়ে নৌকার প্রচারণায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওয়াব আলী, চাতরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরু, যুবলীগ নেতা জালাল, ছাত্রলীগ নেতা মো. জুয়েলের অবস্থা গুরুতর।

তবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দীন বলেন, নৌকার বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমার নির্বাচনী ক্যাম্পে এসে আমাকে মারধর করেছে। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করতে এলে তাদের উপরও হামলা করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসীদের পিটুনি দিয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ওসি এসএম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে পরৈকোড়া ইউনিয়নে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আমাদের একজনও আহত হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।