প্লাবন ঘোষের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচণা-শিগগিরই চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:02 AM, 23 July 2022
এরশাদ শিকদারের মেয়ে এশা

ধর্মান্তরিত এবং বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় প্রেমিক প্লাবন ঘোষের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বহুল সমালোচিত এরশাদ শিকদারের কন্যা জান্নাতুল নওরীন এশা (২২)। এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক প্লাবন ঘোষের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ আনা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, নিহতের ময়না তদন্ত রিপোর্ট এরই মধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে। শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট দিবে গুলশান থানা পুলিশ।
প্রেমিক প্লাবন ঘোষকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন এশা। গত ৩ মার্চ রাতে গুলশান শাহাজাদপুরের সুবাস্তু নজরভ্যালী অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পর দিন এশার মা এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা আক্তার শোভা গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় এশার প্রেমিক প্লাবন ঘোষকে আসামি করা হয়।
এ ব্যাপারে গত রাতে গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান ইনকিলাবকে বলেন, এশার বাসা থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্ত করার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই আত্মহত্যায় প্লাবন ঘোষের প্ররোচণা রয়েছে। এশার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশ হাতে পেয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার দুই হাতে ব্লেড দিয়ে কাটা জখমের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যাজনিত কারণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ক্রাইম সিন আলামতের সিআইডির পর্যবেক্ষণের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টটি হাতে পেলে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এদিকে নিহতের পরিবার ও ঘনিষ্টজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ধর্মের প্লাবনের সঙ্গে এশার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতোই চলাফেরা করত। কিন্তু প্রেমিক প্লাবনকে বিয়ের কথা বললে সে ধর্মান্তরিত কিংবা এশাকে বিয়ে করতে রাজী হচ্ছিল না। প্লাবন ঘোষকে ভিডিও কলে রেখে বাসার বেডরুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় এশার মা এবং এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা আক্তার শোভা আত্মহত্যার প্ররোচণা অভিযোগ এনে প্লাবনকে একমাত্র আসামি করে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশের ভাষ্য, আসামি প্লাবন ঘোষ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে ঘটনার পরপর এশার মা শোভা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিকের ছেলে প্লাবন ঘোষ। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সন্তান হওয়ায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবেই প্লাবনকে গ্রেফতার করছে না। পুলিশ চাইলেই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারত। পুলিশের গড়িমসির কারণে সময় পেয়ে প্লাবন ঘোষ আদালত থেকে জামিন নিয়েছে।
এশার বান্ধবী সুমী বলেন, এশার যেদিন মৃত্যু হয়, সেদিনও প্লাবনের সঙ্গে সন্ধ্যায় তার ঝগড়া হয়। ওই ঝগড়ার জের ধরে এশা তার দুই হাত ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত করে ভিডিও কল দেয়। তাতেও প্লাবন বিয়েতে রাজি না হয়ে উল্টো বিবাদে জড়ায়। একপর্যায়ে প্লাবন ঘোষকে ভিডিও কলে রেখেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে এশা। সুমী মামলার একজন সাক্ষীও।
প্রসঙ্গত, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার ১৯৯৯ সালে গ্রেফতার হন। এরশাদ সিকদার গ্রেফতার হওয়ার ৪/৫ মাস পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা আক্তার শোভার গর্ভে এশা জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৪ সালের ১০ মে মধ্যরাতে খুলনা জেলা কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এরশাদ সিকদারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা আক্তার শোভা। তিনি ছিলেন একজন আইনজীবীর স্ত্রী। পরকীয়ায় জড়িয়ে এরশাদ শিকদারকে বিয়ে করেন। এরশাদ শিকদারের ফাঁসির পর শোভাকে এরশাদ শিকদারের বাড়ি স্বর্ণকমল থেকে বের করে দেন প্রথম স্ত্রী ও অন্যরা। তারপর থেকে এশাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন শোভা।