প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ক‌ঠিন হ‌বে ব‌লে মন্তব্য বিসিআই-এর।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:47 PM, 04 June 2021

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এরূপ উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তবায়নে সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

শুক্রবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো করদাতা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ তৃতীয় লিঙ্গের শ্রমিক অথবা ১০০ (একশত) অধিক কর্মচারী নিয়োগ সাপেক্ষে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী বৃহৎ শিল্পে (অটোমোবাইল খাত) ২০ বছর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ১০ বছর কর অব্যাহতি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদান করায় বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় শিল্প চেম্বার হিসেবে বিসিআই অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে, যা বিসিআইর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন। বিসিআই মনে করে প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি খাত সহায়ক বাজেট।

এতে আরও বলা হয়, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমুদয় মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিসিআইর পক্ষ হতে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। আমরা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত ১ শতাংশের অতিরিক্ত সকল প্রকার শুল্ক-করাদি মওকুফ করার পুনরায় অনুরোধ করছি। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা এবং দেশের সকল মানুষের সুলভে মানসম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্রগ্রাম জেলার বাইরে স্থাপিত হাসপাতালে ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদান করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা বিসিআই স্বাগত জানায়। এই কমানোর ধারাবাহিকতা ন্য‚নতম আগামী ৩ বাজেটে অব্যাহত রাখার সুপারিশ করছে। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এ আগাম কর সম্প‚র্ণ বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করছি। ৩ কোটি টাকার টার্নওভারে ন্য‚নতম কর হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে টার্নওভারের ন্য‚নতম হার ৪ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করছি। মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আগামী কর বছরের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করছি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেহেতু ওই প্রতিষ্ঠানসমূহ অলাভজনক, সেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর প্রস্তাবিত কর হার পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করছি। কর আরোপ হলে দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে করোনার কারণে কর্মহীনতা ও আয়-হ্রাস কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা কর্মসূচি প্রভৃতির আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে বলে বিসিআই মনে করে।

দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নজর দেয়া হয়েছে। মানবসম্পদকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন করা হলে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা সহজিকরন করে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করছি।

মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা বিগত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করেছি। উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে বিসিআই, যার ফলে করের আওতা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।

বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের কথা বলেছে। সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে এ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্খা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের এই আকার অবাস্তব নয়। দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজেটের আকারও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো সুদৃঢ় করতে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়নে জোর প্রচেষ্টা গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :