প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এনামুল গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:11 PM, 19 June 2022
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এনামুল গ্রেফতার

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা পুতে রেখে  হত্যার চেষ্টা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত শেখ মো. এনামুল হক ওরফে  শেখ মো. এনামুল করিম (৫৩) নামে এক জঙ্গি সদস্যকে তুরাগের ডিয়াবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
গ্রেফতারকৃত এনামুল হক গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার মৃত শেখ আব্দুল মজিদের পুত্র বলে জানা গেছে।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারর র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি দল তুরাগ থানার ডিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও জানান, এসময় তার কাছ থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড, একটি ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি পাসপোর্ট  ও দু’টি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জঙ্গি সদস্য শেখ মো. এনামুল হক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।
৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে এ সব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ গ্রেফতারকৃত শেখ মো. এনামুল হক ওরফে শেখ মো. এনামুল করিমসহ ১৪ জন’কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।
এনামুল র‌্যাবকে আরও জানায়, ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজি’র আমীর মুফতি আব্দুল হান্নানের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্প নগরীতে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আনিসের সাথে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে “সোনার বাংলা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ” নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। মুফতি হান্নান ও অন্যান্য জঙ্গি নেতারা ২০০০ সালের জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার তার ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। সে বিভিন্ন সময়ে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করত বলেও স্বীকার করেছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত এনামুল মুফতি আব্দুল হান্নানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য পরস্পর যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ওই কারখানায় সাবান তৈরির ক্যামিকেল সংগ্রহের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কারখানায় জমা করে লোহার ড্রামের ভিতর দু’টি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে । পরে তারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে বোমা পুতে রাখে।
তিনি বলেন,  পরবর্তীতে এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর সে নিজের পরিচয় গোপন করে ক্বারী না হওয়া সত্বেও ক্বারী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে ৮ বছরের অধিক সময় ইমামতি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন সময়ে সে ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে।
র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার মূখপাত বলেন, জঙ্গি সদস্য এনামুল গাজীপুরে অবস্থানকালীন একটি হোমিও প্যাথিক কলেজে দু’ বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। একইভাবে সে নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিত। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সে ঢাকার উত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে।
র‌্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর  উত্তরায় ২০১৫ সালে ‘‘আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা’’ নামে একটি ভূয়া হোমিও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আই কে হোমিও কলেজ বন্ধ করে সে ক্যান্সার  নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্টান খুলে ক্যান্সারের ভূয়া হারবাল চিকিৎসা প্রদান শুরু করে। তার চিকিৎসায় ক্যান্সার সম্পূর্ণ রুপে ভাল হয় বলে সে দাবী করতো। সে এইডস রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম বলেও দাবী করত।
জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল উল্লেখ করে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান,  ইতোপূর্বে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি জঙ্গি ইকবাল ও রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি মুফতি শফিকুর রহমান এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমীর মুফতি আব্দুল হাই’কে গ্রেফতার করে র‌্যাব।