পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার তরুণী বাংলাদেশি, নির্যাতক টিকটক হৃদয়।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:08 PM, 28 May 2021

চার-পাঁচ জন মিলে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছেন। সে ঘটনা ভিডিও করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। ওই ভিডিওতে নির্যাতনের শিকার সেই তরুণী ও নির্যাতনকারীদের মূল হোতা তরুণকে পুলিশ শনাক্ত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার শিকার তরুণী ও নির্যাতনকারী তরুণ দু’জনেই বাংলাদেশি। ছেলেটি ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে পরিচিত। বাসা মগবাজার। তবে ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরালায়, দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে। ধারণা করা হচ্ছে, মানব পাচার চক্র মেয়েটিকে ভারতে নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে শ্যামলীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের তার বাবা হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাইবার মনিটরিং টিমের নজরে এলে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। এরই মধ্যে ঘটনায় নির্যাতকদের একজনের চেহারার সঙ্গে মগবাজারের এক তরুণের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া প্রোফাইল ছবির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে সেই তরুণকেই নির্যাতনকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বাকিদের সন্ধান চলছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ছেলেটির ফেসবুক আইডি শনাক্ত করে জানা যায়, তার নাম রিফাতুল ইসলাম। স্থানীয়দের কাছে সে টিকটক হৃদয় বাবু নামে পরিচিত। বয়স ২৯ বছর। মগবাজারের বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তার মা ও মামাকে ভিডিওটি দেখানো হয়। ভিডিওতে উপস্থিত তরুণ রিফাতুল নয় বলে দাবি করেন তারা। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্য ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ দেখিয়ে তাদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এবারে তারা স্বীকার করেন যে ভিডিও’র ছেলেটিই রিফাতুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু।

হৃদয়ের মা ও মামা পুলিশকে জানান, উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে চার মাস আগে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাসার কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। এ পর্যায়ে পুলিশ হৃদয়ের মামার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মাস তিনেক আগে ভারতে গিয়েছেন। সেখানেই কেরালায় ১৫-২০ দিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে। মেয়েটিকে নির্যাতন করার সময় তার সঙ্গে ছিলেন তারই কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব।

হৃদয়ের সঙ্গে কৌশলে পুলিশ কথোপকথন চালিয়ে জানতে পারে, নির্যাতনের শিকার মেয়েটিও বাংলাদেশি। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরে। ঢাকায় হাতিরঝিল এলাকায় বাসা। মেয়েটির ভারতীয় একটি পরিচয়পত্রও (আধার কার্ড) পাঠান রিফাতুল।

উপকমিশনার শহীদুল্লাহ বলেন, টিকটক হৃদয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা মেয়েটির পরিবারের সন্ধান পেয়েছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। মেয়েটির পরিবার জানিয়েছে, ভিডিও’র মেয়েটি তাদেরই সন্তান।

রিফাতুল ওরফে টিকটক হৃদয় বাবুর বাসা তল্লাশি করে তার এনআইডি কার্ড, রমনা থানায় তার নামে দায়ের করা একটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার এজাহার ও এফআইআর কপি পেয়েছে পুলিশ। হৃদয় ভারতের পুনেতে অবস্থান করছে জানালেও তার প্রকৃত অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি তিনি অবৈধ উপায়ে ভারতে গেছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনায় রিফাতুলের সহযোগীদের পরিচয় শনাক্তের কাজও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের কাজ। প্রেমের ফাঁদে ফেলে অসহায় ও বিদেশ যেতে আগ্রহী নারীদের প্রলুব্ধ করে বিদেশে পাচার করে থাকে এ ধরনের চক্র। তদন্তের প্রয়োজনে আমরা ভারতীয় পুলিশ ও ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিতে পারি। এ বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, হৃদয় ও নির্যাতনের শিকার তরুণীর মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল বা ভারতে যাওয়ার পর কী ঘটেছে, সেগুলো এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :