পাহাড়সম অ‌বৈধ সম্পদের মা‌লিক ‘কাজী জেবুন্নেছা বেগম”র ঔদ্ধত্যে হতবাক দেশ!

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:30 PM, 18 May 2021

স্বাস্থ্য মন্ত্রণাল‌য়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম কর্তৃক দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক‌টি রু‌মে আটকে রেখে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিকৃষ্টতম এঘটনার মূল হোতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণাল‌য়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম এখন টক অব দ্যা কা‌ন্ট্রি।

তার পদ‌বি অ‌তি‌রিক্ত স‌চিব হ‌লেও ভাব মন্ত্রী‌কেও না‌কি উৎ‌রে যায়। তার সেকশা‌নে স্বাস্থ্য মন্ত্রনাল‌য়ের কোন কাজ টাকা ছাড়া কোন দিনও কা‌রো প‌ক্ষে কা‌রা‌নো সম্ভব হয়‌নি ব‌লে জানান স্বাস্থ্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিয়‌মিত কিছু ঠিকাদার।

উঠে এসে‌ছে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা’র অ‌বৈধ উপা‌য়ে‌ উপা‌র্জিত সম্প‌দের বিরাট ফি‌রি‌স্তি।
‌ভি‌ডিও দে‌খে অ‌নেক সাংবা‌দিক মন্তব্য ক‌রে‌ছেন, “দুর্ণী‌তিবাজ এ অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা যেভা‌বে দে‌শের এক‌টি জাতীয় প‌ত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গলা টি‌পে শারী‌রিক নির্যাতন কর‌লেন তা দে‌খে ম‌নে হ‌চ্ছে তি‌নি কোন সরকারী‌ আমলা নন কোন সন্ত্রাসী গ্যাং স্টার গ্রু‌পের মা‌ফিয়া সম্রাজ্ঞী।”

জানা যায়, ‌দৈ‌নিক প্রথম আলো প‌ত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রনাল‌য়ের লাগামহীন লুটপা‌টের কা‌হিনী এবং দুর্ণী‌তিবাজ অ‌নেক আমলা‌দের মু‌খোশ উম্মোচ‌নের কার‌নে গতকা‌লের এ ন্যাক্যারজনক ঘটনা।

‌সাংবা‌দিক ইউসুফ আরে‌ফিন ব‌লেন, “প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সংবাদকর্মী – রোজিনা আপাকে হেনস্তাকারী (একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরা) অতিরিক্ত সচিব দূর্নীতিবাজ কাজী জেবুন্নেছা বেগমের কানাডায় ৩ টি, পুর্ব লন্ডনে ১ টি এবং ঢাকায় ৪টি বাড়ী আছে। গাজীপুরে আছে ২১ বিঘা জমি। এছাড়া নামে-বেনামে আছে ৮০ কোটি টাকার এফডিআর। সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব যখন এত সম্পদের মালিক হয় তখন তার গোমর ফাঁস করা সাংবাদিককে তো গলা চেপে ধরতেই হবে!’

উ‌ল্লেখ্য যে, সোমবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে ভিডিওটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শেয়ার করতে দেখা গেছে। ৫ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি নিজ নিজ আইডিতে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও লেখকসহ সমাজের ভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রুম মধ্যে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গলাচেপে ধরে রাখেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম।
এসময় মিজান না‌মে পু‌লি‌শের এক কন্স‌টেবল রো‌জিনা ইসলাম‌কে ব‌লেন, “ম্যাডা‌মের বিরু‌দ্ধে অ‌নেক রি‌পোর্ট ক‌রে‌ছেন, এখন আপনার রি‌পোর্ট সহকা‌রে আপনা‌কে মা‌টি‌তে পুঁ‌তে ফেলা হ‌বে।”
এরপর মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে যান রোজিনা ইসলাম। পরে জোর জবরদস্তি করে পুলিশের দুই নারী সদস্য তাকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি চিকিৎসার জন্য। এ সময় পুলিশ কথা গড়মিল পাওয়ায় সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের কথা না শুনেই একটি মাইক্রোবাসে করে রোজিনা ইসলামকে নিয়ে যাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অসুস্থ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হাসপাতাল না নিয়ে শাহবাগ থানা নিয়ে যায় পুলিশ। বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান তার সহকর্মীরা। পরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তথ্য চুরি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিন দুপুরে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার অনুপস্থিতিতে অফিস কক্ষে ঢুকলে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগ ওঠে। সেখানেই টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় তাকে। এ বিষয়ে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথির ছবি তোলার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার দুপুরে এক সোর্সের কাছ থেকে কিছু কাগজ সংগ্রহ করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। এসময় স্বাস্থ্য সচিব তার কক্ষে না থাকায় প্রথমে ঢুকতে না চাইলেও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনুরোধে রুমে প্রবেশ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, রুমে প্রবেশ করে একটি পত্রিকা পড়তে শুরু করলে হঠাৎ করেই মন্ত্রণালয়ের সাত আটজন কর্মী রোজিনা ইসলামের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে কিছু কাগজপত্র ব্যাগে ঢুকিয়ে তার বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ এনে হেনস্তা শুরু করে।
এরপর দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা একটি কক্ষে আটকে রাখার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিমের হাতে রোজিনা ইসলামকে হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে রোজিনা ইসলামকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

প‌রে সোমবার রাতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী নি‌জে বাদী হ‌য়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :